মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৭:৫৮ পিএম
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জু। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে মহান আল্লাহ তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন।
আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি এক মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করলেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন ‘আপসহীন’ এই নেত্রী।
খালেদা জিয়া কেবল রাজনীতির মাঠেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও চরম প্রতিকূলতা ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। স্বামী ও সন্তান হারানোর গভীর শোকের পাশাপাশি দীর্ঘ বছর রোগযন্ত্রণা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। মামলা-হামলা আর কারাবরণ সত্ত্বেও তিনি গণতন্ত্রের লড়াই থেকে পিছু হটেননি। রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতনের প্রতিটি ধাপে তিনি নিজের আদর্শে অটল থেকেছেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।
সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আরটিভি/এআর