বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৪:০৭ পিএম
নতুন করে আলোচনায় এসেছে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে সামরিক বিকল্প ব্যবহার করে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিতে পারে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাশিয়া ও চীনের সামরিক কার্যক্রম সেখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেনমার্কের পক্ষে দ্বীপটির নিরাপত্তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কারণে মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন।
তবে মার্কিন এই অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেন যৌথভাবে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কের হাতে থাকবে। পাশাপাশি কানাডাও ডেনমার্কের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মানজনক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ সামরিক বিকল্পের পক্ষে থাকলেও অন্যরা বলছেন, সামরিক হুমকির বদলে গ্রিনল্যান্ড ক্রয় করাই ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসের দুই পার্টির সদস্যরাও ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সংক্ষিপ্তভাবে, আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব এবং রাশিয়া-চীন সামরিক কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন করে তীব্র হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্র : আলজাজিরা
আরটিভি/এসকে