images

আন্তর্জাতিক / ইউরোপ / যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের খবরদারির মধ্যে রাশিয়ার বার্তা

বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৩৩ পিএম

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে বন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি সম্পদের ওপর একাই নিজের দখলে নিতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চীন, রাশিয়া, ইরান এবং কিউবার সঙ্গে যাবতীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক ‘ছিন্ন’ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের এই নগ্ন খবরদারির মধ্যেই আটলান্টিক মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ— যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।  ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি রুশ পতাকাবাহী জাহাজকে ঘিরে আটলান্টিকে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে জাহাজটিকে রক্ষা করতে রাশিয়া সেখানে শক্তিশালী নৌজাহাজ মোতায়েন করেছে। মঙ্গলবার রাতে স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করা এই জাহাজটি এখন নতুন এক যুদ্ধের স্ফুলিঙ্গে পরিণত হয়েছে। সিবিএস নিউজের বরাতে বিবিসি এই তথ্য জানায়।

মূলত গত মাসে থেকেই ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ট্রাম্প ‘নৌ অবরোধ’ জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেশটির সরকার তখন একে সরাসরি ‘চুরি’ বলে আখ্যা দিলেও ট্রাম্প তার অবস্থানে ছিলেন অনড়। বিশেষ করে গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন কোস্ট গার্ড ‘বেলা ১’ নামের একটি জাহাজে তল্লাশির চেষ্টা নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তল্লাশির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জাহাজটি আকস্মিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে এবং নাম বদলে ‘মারিনেরা’ রাখে। একই সঙ্গে এটি গায়ানা থেকে রাশিয়ার পতাকায় পুনঃনিবন্ধিত হয় বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানি তেল পরিবহন করেছে। 

আরও পড়ুন
Trump000

ভেনেজুয়েলার সব তেল একাই চান ট্রাম্প, দিলেন কড়া বার্তা!

এদিকে গত মঙ্গলবার  ইউরোপের দিকে জাহাজটির যাত্রার সময় প্রায় ১০টি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার ওই এলাকায় টহল দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এই পরিস্থিতি ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে এবং নিজ দেশের সম্পদ রক্ষায় যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।্ব

সাউদার্ন কমান্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সেটি সরাসরি নিজেদের দখলে নিতে চায়। সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক করে বলেছে, ‘আমাদের নৌবাহিনী যেকোনো নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’ তবে আইসল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় বৈরী আবহাওয়া এবং যুক্তরাজ্যের জলসীমার কাছাকাছি হওয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা ওয়াশিংটনের জন্য বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।

গত মাসে ‘দ্য স্কিপার’ নামের একটি ট্যাংকার জব্দের মাধ্যমে ট্রাম্প তার শক্তির মহড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার প্রতিপক্ষ সরাসরি রাশিয়া হওয়ায় পরিস্থিতি ভিন্ন। ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় রুশ জাহাজের ওপর মার্কিন খবরদারি বিশ্বকে এক নতুন ‘শীতল যুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে। 

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে বহিষ্কার করার পর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। ডেলসি রদ্রিগেজ তখন থেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনিই ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন।

আরটিভি/এআর