শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৯:০৯ পিএম
ইউরোপের দেশগুলোতে যখন অভিবাসনবিরোধী হাওয়া বইছে, তখন সম্পূর্ণ উল্টো এবং সাহসী এক দাবি তুলেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার(৮ জানুয়ারি) মাদ্রিদে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতদের এক সমাবেশে তিনি বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এক ভয়াবহ বার্ধক্যজনিত সংকটে ভুগছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র চাবিকাঠি হতে পারে সুপরিকল্পিত অভিবাসন। সানচেজের মতে, অভিবাসীরা কেবল অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং ঝিমিয়ে পড়া ইউরোপকে পুনরুজ্জীবিত করতেও সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ তথ্যের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, গত ছয় বছরে স্পেনের মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৮০ শতাংশই এসেছে অভিবাসীদের শ্রম থেকে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, স্পেনের বর্তমান মডেলটি প্রমাণ করেছে যে অভিবাসন কোনো বোঝা নয়, বরং একটি বড় সম্পদ। স্পেনের এই শক্তিশালী অবস্থান ইউরোজোনের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থনৈতিক সাফল্য এনে দিয়েছে, যা পুরো ইউরোপের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা।
ডানপন্থি দলগুলোর কড়া সমালোচনার মুখেও সানচেজ দাবি করেন, তার সরকার যে ‘উন্মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করেছে তা চমৎকারভাবে কাজ করছে। ২০২৫ সালে স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা ৪২ শতাংশের বেশি কমেছে, যা প্রমাণ করে যে বৈধ সুযোগ দিলে অবৈধ পথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। মানবপাচারকারীদের রুখতে এবং দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তুলতে স্পেনের এই ‘উইনিং মডেল’ এখন পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলোচনার কেন্দ্রে।
সমালোচকরা দাবি করেছিলেন, স্পেনের নমনীয় নীতি অবৈধ প্রবেশ বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু সরকারি তথ্য বলছে উল্টো কথা। ২০২৫ সালে স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন আগের বছরের তুলনায় ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ দিয়ে অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর পরিবর্তে স্পেন বৈধ পথে কর্মী নিয়োগ এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবপাচারকারীদের রুখতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাথে বিশেষ চুক্তিও করেছে মাদ্রিদ।
স্পেন সরকারের এই সাহসী ও অভিবাসনবান্ধব অবস্থান ইউরোপের মাটিতে থাকা হাজার হাজার অভিবাসীর মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটি যে ২ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তার সিংহভাগ কৃতিত্বই পেদ্রো সানচেজ দিলেন দেশটিতে আসা অভিবাসীদের।
আরটিভি/এআর