মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:২৯ এএম
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর)। সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী অন্তত ৯ জন রয়েছে।
সহিংস এই আন্দোলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হলে ইরানে হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত বিকল্প’ বিবেচনা করতে পারে। এর আগেও তিনি আন্দোলনকারীদের প্রাণহানি ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন রাজনীতিকদের উদ্দেশে ‘প্রতারণা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারপন্থী সমাবেশগুলোর প্রশংসা করেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখনো ‘অনেক বিকল্প’ খোলা রয়েছে, যার মধ্যে আকাশপথে হামলা বা এয়ার স্ট্রাইকও একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনায় আছে।
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামস মনে করছেন, ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছেন। একদিকে হুমকি বাস্তবায়ন না করলে তিনি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল দেখাতে পারেন, অন্যদিকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে বিবিসি ভেরিফাই ইরানের বিক্ষোভ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং তেহরানের একটি মরচুয়ারির দৃশ্য বিশ্লেষণ করছে, যেখানে হতাহতের চিত্র উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, ইরানে টানা ৯৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। দেশটির বহু মানুষ এখনো অনলাইনের বাইরে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রভাব নিয়ে ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি পার্সিয়ান।
আরটিভি/এসকে