মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ০১:৫৯ পিএম
কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার দেখানো কঠোর পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ব্রিটেন ও ফ্রান্স। অস্ট্রেলিয়া গত মাসে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো ১০টি প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফ্রান্সও তাদের দেশে ১৫ বছরের কম বয়সীদের ওপর একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইছে। এই লক্ষ্যে আনা একাধিক বিলে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। ব্রিটেন সরকার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্ত্রীদের একটি বিশেষ দল অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। খবর আল জাজিরার।
তবে ব্রিটিশ পরিকল্পনায় কেবল নিষেধাজ্ঞা নয় বরং ইন্টারনেটে সম্মতির ন্যূনতম বয়স বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ‘কারফিউ’ জারির মতো কঠোর প্রস্তাবনা রয়েছে। এছাড়া অ্যাপের আসক্তি সৃষ্টিকারী ডিজাইন যেমন ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’ বন্ধ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে লিজ কেন্ডালের নেতৃত্বাধীন প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
বর্তমান সময়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর কন্টেন্ট নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ এই আইনি তোড়জোড়কে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ইলন মাস্কের চ্যাটবট ‘গ্রোক’ এবং এআই টুল ব্যবহার করে নগ্ন ছবি তৈরির প্রবণতা রুখতে ব্রিটেন কঠোর ডিজিটাল দেয়াল তৈরির কথা ভাবছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিশুরা যেন কোনোভাবেই তাদের ডিভাইসে অনুপযুক্ত ছবি দেখা বা শেয়ার করার সুযোগ না পায়।
এই জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ। কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি ব্যাডেনচ অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাদের দেওয়া আইডিয়া নকল করছেন কিন্তু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।
পাল্টা জবাবে সরকার জানিয়েছে, তারা তাড়াহুড়ো না করে একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান খুঁজছে যা শিশুদের শৈশবকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখবে।
আরটিভি/এআর