বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:০৭ পিএম
দক্ষিণ ফিলিপাইনের শরিফ আগুয়াক শহরের মেয়র আকমাদ মিত্র আম্পাতুয়ান এক ভয়াবহ ও সুপরিকল্পিত প্রাণঘাতী হামলা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন।
স্থানীয় সময় রোববার সকালে শহরের ব্যস্ততম এলাকায় দিনের আলোতেই তার গাড়ি লক্ষ্য করে রকেটচালিত গ্রেনেড (আরপিজি) এবং ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় একদল বন্দুকধারী। খবর বিবিসির।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া এই লোমহর্ষক ঘটনায় দেখা যায়, একটি সাদা মিনিভ্যানে করে আসা হামলাকারীরা মেয়রের কালো রঙের এসইউভি লক্ষ্য করে বিধ্বংসী এই আক্রমণ চালায়। তবে গাড়িটি উচ্চমানের বুলেটপ্রুফ বা সাঁজোয়া যান হওয়ায় বড় ধরণের বিস্ফোরণ সত্ত্বেও মেয়রের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৬টা ২০ মিনিটে বারাঙ্গে পোব্লাসিওন এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে মেয়রের গাড়িটি মোড় নেওয়ার সময় অতর্কিত এই হামলা শুরু হয়। আরপিজি সরাসরি মেয়রের গাড়িতে আঘাত করলে গাড়ির সামনের অংশ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাথে থাকা নিরাপত্তা বহরের একটি পিকআপ ভ্যানেও বৃষ্টির মতো গুলি চালায় হামলাকারীরা।
মেয়রের নির্বাহী সচিব আনোয়ার কুইট এম্বলাওয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, গাড়িটি যদি বিশেষ সুরক্ষা সংবলিত না হতো, তবে মেয়রের মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। ভাগ্যক্রমে তিনি অক্ষত আছেন, তবে তার দুই নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্তকারীদের মতে, মেয়র আম্পাতুয়ানের ওপর এটি ছিল চতুর্থবারের মতো হত্যার চেষ্টা। এর আগে ২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালেও তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছিল। শেষ দুটি হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই মূলত বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার শুরু করেন, যা আজ তার জীবন বাঁচিয়ে দিল। জনবহুল হাইওয়ের পাশে সাধারণ বিক্রেতা ও পথচারীদের সামনে এমন দুঃসাহসিক হামলার ঘটনা পুরো ফিলিপিন্সে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক কোনো শত্রুতা থেকে এই হামলা কি না, এমন প্রশ্ন এড়িয়ে সচিব এম্বলাওয়া বলেন, জনসেবায় নিয়োজিত রাজনীতিবিদদের জন্য এ ধরণের ঝুঁকি নতুন কিছু নয়।
হামলার পরপরই ফিলিপিন্স পুলিশ ও সেনাবাহিনী ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করে। ফিলিপাইন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইতিমধ্যে তিনজন সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহতদের গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শক্তিশালী ও স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। মাগুইন্দানাও দেল সুর প্রদেশের এই এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবেই সংঘাতপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে মেয়রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর