images

আন্তর্জাতিক / ভারত

‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দিতে বললেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:২৫ পিএম

ভারতের আসাম রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাভাষী মুসলমান বা ‘মিঞাঁ’ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আরও এক দফা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।  তিনি বলেন, আসামের এই জনগোষ্ঠীর ভোট দেওয়ার অধিকার এদেশে নয় বরং বাংলাদেশে হওয়া উচিত। ‘মিঞাঁ’ মুসলিমদের উত্যক্ত করা বা চাপের মুখে রাখা সরকারের একটি সচেতন রাজনৈতিক কৌশল এবং এ নিয়ে তার কোনো লুকোচুরি নেই।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তিনসুকিয়া জেলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিজেপি কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যেন সন্দেহভাজন ৫ লাখ নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দিয়ে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। 

আরও পড়ুন
7

‘মুসলমানদের চাপে রাখা প্রয়োজন, নইলে সব দখল করে নেবে’

তার মতে, আদর্শ পরিস্থিতি হতো যদি এই মানুষদের আসামে ভোট দিতে না দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘মিঞাঁ’ মুসলিমরা যেন আসামে শান্তিতে থাকতে না পারে এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়, সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

আসামের রাজনীতিতে ‘মিঞাঁ’ শব্দটি মূলত বাংলাভাষী মুসলমানদের প্রতি একটি অবমাননাকর সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা দিয়ে তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বা ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রমাগতভাবে এই সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিভিন্ন দমনমূলক মন্তব্য করে আসছেন। তিনি সাধারণ অসমীয়াদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা দৈনন্দিন লেনদেনে এই মানুষদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং তাদের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। তার এই ‘বিভেদকামী’ নীতিকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেসসহ অন্য বিরোধী দলগুলো।

এই পরিস্থিতিতে আসামের বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া এবং অন্যান্য অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের অভিযোগ, একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রকাশ্যে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া সরাসরি ভারতীয় সংবিধানের লঙ্ঘন। গুয়াহাটি হাইকোর্টে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে হিমন্ত বিশ্বশর্মা পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরণের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরটিভি/এআর