images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য / ইউরোপ

ট্রাম্পের রণহুঙ্কারের মধ্যেই হঠাৎ তুরস্ক সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:৩০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরীগুলোর গর্জন শোনা যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এক ঝটিকা সফরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে তিনি তুরস্কে অবতরণ করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে রুদ্ধশ্বাস বৈঠকে বসেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিশাল নৌবহর’ যখন ইরানের জলসীমার কাছাকাছি এবং পেন্টাগন যখন বড় ধরণের সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে, তখন তেহরানের প্রধান কূটনীতিবিদের এই আঙ্কারা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

মূলত এই সফরের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনা নিরসনে তুরস্ককে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজে লাগানো। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক হামলা হবে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তিনি ওয়াশিংটনকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন সব বিরোধ একসঙ্গে সমাধানের চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে আলোচনা শুরু করা হয়। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহী বলে তিনি দাবি করেন।

ফিদান আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ কারোর জন্যই মঙ্গলজনক হবে না এবং আঙ্কারা এই উত্তেজনা প্রশমনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই সফরে এসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্কের বার্তা দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না কিন্তু আক্রান্ত হলে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। 

আরও পড়ুন
3

মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

তুরস্কের এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই  আজারবাইজান এক অভূতপূর্ব ঘোষণা দিয়েছে , তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। এর আগে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও একই ঘোষণা দিয়েছিল। 

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের আরও কাছে গিয়ে তাদের বিধ্বংসী যুদ্ধ মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এরদোয়ান সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। তুরস্কের বিশ্বাস, সঠিক কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা সম্ভব। ট্রাম্পের ‘সব বিকল্প টেবিলে আছে’ নীতির বিপরীতে আঙ্কারার এই শান্তি প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যকে এক আসন্ন মহাপ্রলয় থেকে রক্ষা করতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। 

আরটিভি/এআর