মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৫:২২ পিএম


মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘বৃহৎ নৌবহরের’ শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে এবার সেখানে পাঠানো হয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক’। 

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার(২৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

আর্লি বার্ক শ্রেণির এই এজিস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারটি মোতায়েনের মাধ্যমে পেন্টাগনের স্পষ্ট বার্তা, তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের সামরিক ব্যবস্থা নিতে ওয়াশিংটন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান রীতিমতো অভূতপূর্ব। আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন রয়েছে বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’। নতুন যুক্ত হওয়া ডেস্ট্রয়ার ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক ছাড়াও এই বহরে রয়েছে ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মারফি, ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন এবং ইউএসএস ম্যাকফলের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী সব যুদ্ধজাহাজ। এর পাশাপাশি আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পেন্টাগন সেখানে পাঠিয়েছে উন্নত যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং বসানো হয়েছে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সব বিকল্প’ টেবিলে রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ওয়াশিংটনের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের মুখে তেহরানও তাদের সুর নরম করেনি। ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া এক কড়া হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো ভুল হিসাবের জবাব দেওয়া হবে বাস্তব সময়ে এবং অত্যন্ত কঠোরভাবে।

তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলো ইরানের অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানের সামরিক নেতাদের মতে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন শক্তির এই আস্ফালন মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি মরিয়া চেষ্টা, তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেকোনো মুহূর্তে এই বড় লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছেন, অন্যদিকে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে এই বিশাল বহর পাঠিয়ে ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই নতুন নিরাপত্তা কৌশল অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে সমুদ্রের গভীরে ইরানের মিসাইল সুড়ঙ্গ এবং আকাশে হাইপারসনিক মিসাইলের হুমকি এই সমীকরণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। 

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission