শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:১০ পিএম
রাশিয়ার রাজধানী মস্কো বর্তমানে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। চলতি জানুয়ারি মাসে শহরটির নাগরিকরা গত দুই শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারপাতের সাক্ষী হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৮২৩ সালের পর থেকে অর্থাৎ গত ২০৩ বছরে আর কখনো জানুয়ারিতে এত বিশাল পরিমাণ তুষারপাত দেখেনি নগরবাসী। অস্বাভাবিক এই তুষারঝড় ও তীব্র ঠান্ডায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের এই মেগাসিটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসজুড়ে মস্কোতে ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সমপরিমাণ তুষার রেকর্ড করা হয়েছে। শহরটির অনেক এলাকায় বরফের স্তূপের উচ্চতা ৬০ সেন্টিমিটার বা প্রায় দুই ফুট ছাড়িয়ে গেছে।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে দেখা যায়, মস্কোর কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতেও সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাতায়াতকারী ট্রেনগুলো কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলছে এবং বরফের কারণে শত শত যানবাহন সড়কে আটকা পড়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া যানজট গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। রাস্তাঘাটে পুরু বরফের স্তর জমে থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্কো অঞ্চলের ওপর দিয়ে একটি অত্যন্ত গভীর ও বিস্তৃত ঘূর্ণিঝড় এবং তীব্র বায়ুমণ্ডলীয় ফ্রন্ট অতিক্রম করার কারণেই এই বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাতাসের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পড়া তুষার নগরবাসীকে এক অন্ধকার ও তুষারঢাকা শীতে বন্দি করে ফেলেছে।
৩৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা পাভেল আক্ষেপ করে বলেন, ছোটবেলার সেই তুষারপাতের দিনগুলো মনে পড়ে, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। চারদিকে কেবল বরফ আর শূন্যতা।
শুধু মস্কো নয়, রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কামচাটকা অঞ্চলেও তুষারঝড় এতটাই তীব্র ছিল যে সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। এমনকি কিছু এলাকায় ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত তুষার জমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ান প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করেছে যাতে সড়কগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা যায়। তবে প্রতিনিয়ত ঝরতে থাকা তুষারের কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এমন চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে ধারণা করছেন পরিবেশবাদীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এআর