এক নজিরবিহীন শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবন। প্রবল তুষারপাত ও হিমাঙ্কের নিচে নামা তাপমাত্রার কারণে গত দুই দিনে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ৮ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল পুরো অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং আসন্ন আবহাওয়াকে প্রাণঘাতী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
গভর্নর ক্যাথি হোচুল নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় বলেন, শীতকালীন এই ঝড়ে তাপমাত্রা মাইনাস ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ত্বকে ফ্রস্টবাইট তৈরি করতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, বর্তমানের মনোরম আবহাওয়া দেখে বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না কারণ সামনে এক ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতি ধেয়ে আসছে। এ সময় তিনি সবাইকে দ্রুত প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় মজুত করে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে এবং অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের না হওয়ার পরামর্শ দেন ।
আবহাওয়াবিদদের মতে এই ঝড়টি চলতি মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিস্তৃত। যা টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত বরফের পুরু আস্তরণ তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেক্সাসসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামাল দিতে ইউটিলিটি সংস্থাগুলো হাই অ্যালার্টে রয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েদার প্রিডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, বরফ জমার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ডাকোটা ও মিনেসোটায় তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় হাইপোথার্মিয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে নাগরিকদের ঘরের বাইরে না বেরোনোর জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ফেডারেল সরকার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্কুল ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অঘোষিত ছুটি শুরু হয়েছে।
আরটিভি/এআর





