images

আন্তর্জাতিক / এশিয়া

২০ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল মিয়ানমার

মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:৩৫ পিএম

মিয়ানমারে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতের এই কম্পনে মিয়ানমার ছাড়াও প্রতিবেশী বাংলাদেশ এবং ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে প্রথম কম্পনটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।  স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই জোড়া ভূমিকম্পের ঘটনায় মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উৎপত্তিস্থল তুলনামূলক গভীর হওয়ায় কম্পনের রেশ বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট) প্রথম শক্তিশালী ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মাগওয়ে অঞ্চলের ইয়েনাঙ্গইয়াং শহর থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬৩ কিলোমিটার গভীরে। 

আরও পড়ুন
myanmer

মিয়ানমারে নির্বাচনকালে জান্তার বিমান হামলা, প্রার্থীসহ নিহত অন্তত ১৭০

এর ঠিক ১৭ মিনিট পর, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫১ মিনিটে আবারও কেঁপে ওঠে ভূমি। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাখাইন রাজ্যের সিত্তে শহর থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ৫০ কিলোমিটার। 

ভূমিকম্পের তীব্রতা শুধু মিয়ানমারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং উপকূলীয় জেলাগুলোতে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও আতঙ্কিত মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি, তবে রাখাইন ও মাগওয়ে অঞ্চলের মাটির ঘর এবং পুরনো স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

মিয়ানমার মূলত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। তবে পর পর দু’টি বড় কম্পন বড় ধরণের কোনো ‘আফটারশকের’ সংকেত কি না, তা নিয়ে ভূতাত্ত্বিকরা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কায় সিত্তে ও মাগওয়ে অঞ্চলের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে মিয়ানমার প্রশাসন। 

আরটিভি/এআর