বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৩৮ পিএম
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের গোপন নথি প্রকাশের পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিক ও ধনকুবেরের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং যৌন অপরাধের বিস্তৃত বৃত্তান্ত উঠে এসেছে।
তবে এসব নথির মধ্যেই ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত একটি দলিল ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এপস্টেইন জিন প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মানুষের একটি উন্নততর ‘সুপার-রেস’ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এপস্টেইনের ‘জোরো র্যাঞ্চ’-এ এই ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তার লক্ষ্য ছিল নিজের বীর্য বা ডিএনএ ব্যবহার করে একসঙ্গে অন্তত ২০ জন নারীকে গর্ভবতী করা এবং এর মাধ্যমে মানবজাতির মধ্যে নিজের জিন ছড়িয়ে দেওয়া।
এই র্যাঞ্চেই অতীতে নাবালিকাসহ বহু নারী এপস্টেইনের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তার তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এপস্টেইনের এই চিন্তাধারা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্রান্সহিউম্যানিজম’-এর সঙ্গে মিল থাকলেও অনেকে এটিকে নাৎসি আমলের ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবিদ্যার আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়ে এপস্টেইন একাধিক খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
নথি অনুযায়ী, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনগত গতিবিদ্যা কর্মসূচিতে এপস্টেইন প্রায় ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন। পাশাপাশি ২০১১ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রান্সহিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ ২০ হাজার ডলার দান করেছিলেন।
এপস্টেইনের এই পরিকল্পনার কথা শুনে আতঙ্কিত হয়েছিলেন তারই আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটস। তিনি বলেন, ১৯৩০-এর দশকে নাৎসিদের ইউজেনিক্স ব্যবহারের ভয়াবহ ইতিহাসের পর এ ধরনের জেনেটিক ম্যানিপুলেশনের প্রতি এপস্টেইনের আগ্রহ ছিল অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও ভয়ংকর।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান
আরটিভি/এসকে