ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কুখ্যাত যৌন অপরাধী কে এই জেফ্রি এপস্টেইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও কুখ্যাত যৌন অপরাধীদের একজন জেফ্রি এপস্টেইন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার, ক্ষমতাবানদের সঙ্গে রহস্যজনক সম্পর্ক এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই কারাগারে মৃত্যুর কারণে তার নাম আজও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। সে সময় তিনি জামিনের সুযোগ ছাড়াই যৌন পাচারের মামলায় বিচারাধীন ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে জানালেও বিষয়টি ঘিরে সন্দেহ ও বিতর্ক এখনো থামেনি।

এর এক দশক আগেই অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টেইন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাকে আজীবনের জন্য ‘লেভেল থ্রি’ যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন করে যা পুনরায় অপরাধ করার উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে।

শিক্ষক থেকে কোটিপতি

নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকে শহরের অভিজাত ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। সেখান থেকে ওয়াল স্ট্রিটে প্রবেশ করে বেয়ার স্টার্নসের অংশীদার হন তিনি। পরে ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো’ নামে নিজস্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা একসময় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করত।

অল্প সময়েই তিনি ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক ও নিউ মেক্সিকোতে বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক হন এবং রাজনীতিক, শিল্পী ও ধনকুবেরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

ক্ষমতাবানদের সঙ্গে সম্পর্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, হার্ভি ওয়াইনস্টাইনসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয় বলে দাবি করা হয়।

বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার সম্পর্ক আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি করে। এপস্টেইনের এক অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে দাবি করেন, ১৭ বছর বয়সে তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল। অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০২২ সালে অ্যান্ড্রু ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন।

‘শতাব্দীর সমঝোতা’

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় একাধিক কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। তদন্তে প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য পাওয়া যায়। তবে ২০০৮ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি বিতর্কিত সমঝোতার মাধ্যমে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঝুঁকি এড়িয়ে যান। মাত্র ১৮ মাসের সাজা পান, যার বেশিরভাগ সময়ই তিনি ‘ওয়ার্ক রিলিজ’ সুবিধায় কাটান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিয়ামি হেরাল্ড এই চুক্তিকে আখ্যা দেয় ‘শতাব্দীর সমঝোতা’ হিসেবে।

কারাগারে মৃত্যু ও রহস্য

২০১৯ সালে নতুন করে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয় এপস্টেইনকে। বিচার শুরু হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়, যা বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ম্যাক্সওয়েল মামলা

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল গ্রেপ্তার হন। ২০২১ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি ২০ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালতে ম্যাক্সওয়েল বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় হওয়াই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুতাপ।

নথি প্রকাশ নিয়েও বিতর্ক

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস হলেও এখনো সব নথি প্রকাশ হয়নি। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অকারণে গোপন রাখা হয়েছে। এপস্টেইনের বিচার কখনো সম্পন্ন না হলেও তার কেলেঙ্কারি, প্রভাব এবং প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক বিশ্ব রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার ওপর গভীর ছাপ রেখে গেছে।

সূত্র: বিবিসি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুসজ্জিত সামরিক বিমান উড়িয়ে এবং ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন।
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক ও সংকটময় সময় পার করছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এমন সময় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধ, সংঘাত ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অতীতের স্মরণীয় ঘটনাগুলোও ফিরে আসছে আলোচনায়। জাতিসংঘের ইতিহাসের এমন কিছু স্মরণীয় ও আলোচিত মুহূর্ত নিচে তুলে ধরা হলো— ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ভাষণ (১৯৬০)  জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের রেকর্ডটি কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দখলে। ১৯৬০ সালে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এই সময়ে তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কড়া সমালোচনা করেন এবং কিউবান বিপ্লবের আদর্শ তুলে ধরেন। Politics নিকিতা ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০) ১৯৬০ সালের অধিবেশনে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিজের টেবিলে সজোরে ঘুষি মারতে থাকেন। এই অধিবেশন ঘিরেই তার জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করার ঐতিহাসিক কিংবদন্তি চালু হয়। হুগো চ্যাভেজ ও ‘শয়তানের গন্ধ’ (২০০৬) ২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ পডিয়ামে উঠে বুকে ক্রস আঁকেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। আজও এখানে গন্ধকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’ গাদ্দাফির সনদ ছিঁড়ে ফেলা (২০০৯)  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০০৯ সালে ১৫ মিনিটের সময়সীমা ভেঙে টানা ১০০ মিনিট বক্তব্য দেন। নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের একটি পাতা ছিঁড়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুড়ে ফেলেন তিনি। নেতানিয়াহুর কার্টুন বোমা (২০১২)  ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অগ্রগতি বোঝাতে অধিবেশনে বোমার একটি বড় কার্টুন চিত্র প্রদর্শন করেন এবং একটি লাল কালি দিয়ে সেখানে সীমারেখা টানেন। ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)  ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং দেশটির নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেন। Politics(Right) গিলাদ এরদানের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)  ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের একটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান একটি ছোট পেপার শ্রেডার মেশিন দিয়ে অধিবেশনের সামনেই জাতিসংঘ সনদের প্রচ্ছদ পাতা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’  সম্প্রতি জাতিসংঘের মূল ভবনে প্রবেশের সময় এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করলেও জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত এস্কেলেটরের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামে চাপ দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। এসব নাটকীয় ঘটনা ছাড়াও দীর্ঘ ভাষণ ও ক্লান্তিকর সূচির কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব নেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। সূত্র: ওয়াননিউজ আরটিভি/এসআর
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
আবারও আন্দোলনে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তরুণদের সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি।
আবারও আন্দোলনে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি
পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক
পবিত্র মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের একাধিক কৌশলগত অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 
পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক
আরও পড়ুন
জলপাই কুড়ানোর কথা বলে শিশুকে ডেকে নিয়ে যায় হৃদয়, অতঃপর...
২০ বছর ধরে স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ
শরীর টেপানোর ইচ্ছা হয় মাদরাসাশিক্ষকের, ডেকে নেন ছাত্রকে
যৌন নির্যাতনের দায়ে নিষিদ্ধ কোচ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য