ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কুখ্যাত যৌন অপরাধী কে এই জেফ্রি এপস্টেইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও কুখ্যাত যৌন অপরাধীদের একজন জেফ্রি এপস্টেইন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচার, ক্ষমতাবানদের সঙ্গে রহস্যজনক সম্পর্ক এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগেই কারাগারে মৃত্যুর কারণে তার নাম আজও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি উচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। সে সময় তিনি জামিনের সুযোগ ছাড়াই যৌন পাচারের মামলায় বিচারাধীন ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে জানালেও বিষয়টি ঘিরে সন্দেহ ও বিতর্ক এখনো থামেনি।

এর এক দশক আগেই অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টেইন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তাকে আজীবনের জন্য ‘লেভেল থ্রি’ যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন করে যা পুনরায় অপরাধ করার উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে।

শিক্ষক থেকে কোটিপতি

নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকে শহরের অভিজাত ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। সেখান থেকে ওয়াল স্ট্রিটে প্রবেশ করে বেয়ার স্টার্নসের অংশীদার হন তিনি। পরে ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো’ নামে নিজস্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা একসময় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করত।

অল্প সময়েই তিনি ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক ও নিউ মেক্সিকোতে বিলাসবহুল সম্পত্তির মালিক হন এবং রাজনীতিক, শিল্পী ও ধনকুবেরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

ক্ষমতাবানদের সঙ্গে সম্পর্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, হার্ভি ওয়াইনস্টাইনসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এসব সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয় বলে দাবি করা হয়।

বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার সম্পর্ক আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি করে। এপস্টেইনের এক অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে দাবি করেন, ১৭ বছর বয়সে তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল। অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০২২ সালে অ্যান্ড্রু ক্ষতিপূরণ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন।

‘শতাব্দীর সমঝোতা’

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় একাধিক কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। তদন্তে প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য পাওয়া যায়। তবে ২০০৮ সালে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি বিতর্কিত সমঝোতার মাধ্যমে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঝুঁকি এড়িয়ে যান। মাত্র ১৮ মাসের সাজা পান, যার বেশিরভাগ সময়ই তিনি ‘ওয়ার্ক রিলিজ’ সুবিধায় কাটান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিয়ামি হেরাল্ড এই চুক্তিকে আখ্যা দেয় ‘শতাব্দীর সমঝোতা’ হিসেবে।

কারাগারে মৃত্যু ও রহস্য

২০১৯ সালে নতুন করে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে রাখা হয় এপস্টেইনকে। বিচার শুরু হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়, যা বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ম্যাক্সওয়েল মামলা

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল গ্রেপ্তার হন। ২০২১ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি ২০ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালতে ম্যাক্সওয়েল বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় হওয়াই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুতাপ।

নথি প্রকাশ নিয়েও বিতর্ক

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাস হলেও এখনো সব নথি প্রকাশ হয়নি। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অকারণে গোপন রাখা হয়েছে। এপস্টেইনের বিচার কখনো সম্পন্ন না হলেও তার কেলেঙ্কারি, প্রভাব এবং প্রশ্নবিদ্ধ সম্পর্ক বিশ্ব রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থার ওপর গভীর ছাপ রেখে গেছে।

সূত্র: বিবিসি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
৭০ নারীকে ধর্ষণ-নির্যাতন, যৌন পাচারের মামলায় তিন ভাইয়ের যাবজ্জীবন চায় রাষ্ট্রপক্ষ
মাদরাসা থেকে অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে শিশু, মাকে জানায় ‘আসল ঘটনা’
জলপাই কুড়ানোর কথা বলে শিশুকে ডেকে নিয়ে যায় হৃদয়, অতঃপর...
২০ বছর ধরে স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ