রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৭:০৩ পিএম
কল্পনার সেই চকলেটের পাহাড় কিংবা চকলেট নদীর কথা আমরা অনেকেই ছোটবেলার রূপকথায় পড়েছি। কিন্তু সেই অলীক কল্পনাকেও যেন এবার বাস্তবে নামিয়ে আনলেন মাল্টার প্রখ্যাত চকলেটশিল্পী অ্যান্ড্রু ফারুজিয়া।
কোনো লোহা, ইস্পাত কিংবা অ্যালুমিনিয়াম নয়; বরং ২ হাজার ৫০০ কেজির বেশি খাঁটি বেলজিয়ান চকলেট দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন ৫৫ মিটার লম্বা এক আস্ত রেলগাড়ি। অবিশ্বাস্য মনে হলেও চকলেটের তৈরি বিশ্বের দীর্ঘতম এই ভাস্কর্যটি সম্প্রতি নাম লিখিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায়।
চকলেটের এই বিশাল ট্রেন তৈরি করা অ্যান্ড্রু ফারুজিয়ার জন্য এটি প্রথম কোনো সাফল্য নয়; বরং এটি নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভাঙার এক বিরল নজির গড়লেন।
এর আগে ব্রাসেলসে ২০১২ সালে তিনি ৩৪ দশমিক শূন্য ৫ মিটার দীর্ঘ একটি চকলেটের ট্রেন বানিয়ে প্রথমবার বিশ্ব রেকর্ড করেছিলেন। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ২০১৪ সালে তিনি আবারও চমকে দেন বিশ্বকে।
সেবার বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের ‘বুর্জ খলিফা’র আদলে ১৩ দশমিক ৫২ মিটার উঁচু চকলেটের ভাস্কর্য বানিয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো গিনেস রেকর্ডে নাম তোলেন। এবার ৫৫ দশমিক ২৭ মিটার দীর্ঘ ট্রেন বানিয়ে ফারুজিয়া নিজের ঝুলিতে পুরলেন তৃতীয় গিনেস রেকর্ড, যা রন্ধনশিল্পের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
এই বিশালাকার চকলেট ট্রেনটি দৈর্ঘ্যে একটি অলিম্পিক সুইমিংপুলের চেয়েও বড়। পুরো ভাস্কর্যটিতে রয়েছে একটি শক্তিশালী লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন এবং ২২টি অত্যন্ত সুদৃশ্য বগি। কারুকার্যময় এই ট্রেনের প্রতিটি বগির ওজন প্রায় ১৬০ কেজি। নান্দনিকতা ও খাদ্যসংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত ইতালির মিলান শহরে এক জমকালো প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই শিল্পকর্মটি বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করা হয়।
অ্যান্ড্রু ফারুজিয়া পেশায় মাল্টার ইনস্টিটিউট অব ট্যুরিজম স্টাডিজের একজন জ্যেষ্ঠ প্রভাষক। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি রন্ধনশিল্প ও চকলেট তৈরির নিগূঢ় শিক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। এই বিশালাকার প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছিল গত বছরের আগস্ট মাসে। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
প্রথম ধাপে তিনি মাটি দিয়ে ট্রেনের একটি নিখুঁত নকশা বা প্রোটোটাইপ তৈরি করেন যাতে মাপজোখে কোনো ভুল না থাকে। দ্বিতীয় ধাপে মাটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় খাঁটি বেলজিয়ান চকলেটের বড় বড় ব্লক। শেষ ধাপে অক্টোবর মাস থেকে চকলেটের টুকরাগুলো খোদাই করে বগি তৈরি শুরু হয় এবং একদল দক্ষ কারিগরের সহায়তায় সব অংশ নিখুঁতভাবে জোড়া দিয়ে পূর্ণতা পায় এই দানবীয় ট্রেন।
আরটিভি/এআর