বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ০৫:১৮ পিএম
ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক ‘ফাত্তাহ-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রখ্যাত সামরিক সাময়িকী ‘মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রযুক্তিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই মডেলের অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে, যা তেল আবিবের অপরাজেয় প্রতিরক্ষা প্রাচীরের দাবিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল’ (HGV) প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এতটা বিধ্বংসী ও কার্যকর। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে পারে এবং মাঝ আকাশে প্রয়োজন অনুযায়ী মুহূর্তেই গতিপথ পরিবর্তন বা ‘কৌশলগত ম্যানুভার’ চালাতে সক্ষম। ফলে প্রচলিত রাডার বা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পক্ষে এর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা এবং সেটিকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কি স্বয়ং এই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছেন।
মিলিটারি ওয়াচের প্রতিবেদনে তার একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি জানান, বর্তমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মূলত সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের জন্য নকশা করা। কিন্তু ফাত্তাহ-২ এর মতো শব্দের গতির ১০ গুণ (ম্যাক-১০) গতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে হলে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলকে শব্দের অন্তত ৩০ গুণ গতিতে ছুটতে হবে।
বাসেস্কি আরও বলেন , বায়ুমণ্ডলের তীব্র ঘর্ষণের কারণে বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে এমন দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন এবং প্রায় অসম্ভব। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত বিদ্যমান ‘অ্যারো’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’-এর মতো ব্যবস্থাগুলো যেখানে ইরানের পুরোনো মডেলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছিল, সেখানে এই নতুন হাইপারসনিক প্রযুক্তির সংযোজন পুরো প্রতিরক্ষা সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।
ইরানের এই অভাবনীয় সামরিক অগ্রগতির মুখে ইসরায়েল এখন একটি বিশেষ ‘জোন ডিফেন্স’ মডেল তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সুরক্ষা কবচ তৈরি করতে কয়েক দশক সময় এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। তত দিন পর্যন্ত ইসরায়েলের আকাশসীমা ফাত্তাহ-২ এর মতো হাইপারসনিক অস্ত্রের সামনে কার্যত অরক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমন এক সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, যা সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরণের পরিবর্তন এনেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফাত্তাহ-২ কেবল একটি অস্ত্র নয়, বরং এটি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রাচীর ভেদ করার এক অব্যর্থ চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/এআর