images

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৬৩ বিলিয়ন ডলার বাড়তি মুনাফার পথে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬ , ০৪:৪০ পিএম

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ ব্যাংক জেফরিস–এর এক মডেলিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে শুধু মার্চ মাসেই মার্কিন তেল উৎপাদকদের বাড়তি প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের নগদ অর্থপ্রবাহ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জি জানিয়েছে, যদি চলতি বছর গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের আশপাশে থাকে, তবে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো তেল উৎপাদন থেকেই প্রায় ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব পেতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং তেলের দাম বাড়লে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করে।

এদিকে গত শুক্রবার মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৭১ ডলারে লেনদেন শেষ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে মার্কিন ‘শেল’ তেল উৎপাদকরা। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সরাসরি কার্যক্রম তুলনামূলক কম। তবে বড় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল।

বিশ্বের শীর্ষ তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল, শেভরন, বিপি, শেল এবং টোটালএনার্জিস–এর উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক সম্পদ ও বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব কোম্পানির কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

এর ফলে কয়েকটি তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে এবং শেল কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিষেবা কোম্পানি এসএলবি সম্ভাব্য মুনাফা কমার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে ২ ভারতীয় জ্বালানিবাহী জাহাজ

তেল খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ও ওমেগা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস–এর চেয়ারম্যান মার্টিন হিউস্টন বলেন, এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত অর্থে কোনো পক্ষই লাভবান নয়। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো বরং স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতিকেই বেশি পছন্দ করে।

অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হতে পারে। গবেষণা সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকস–এর হিসাব অনুযায়ী, এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হয়, যার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ব্যারেলই কার্যত আটকে আছে।

এ অবস্থায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস ধারণা করছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১২৮ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দ্রুত সমাধান হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।

আরটিভি/এমএইচজে