images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজের পর এবার বাব এল মান্দেব প্রণালি বন্ধের পথে ইরান

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ , ০২:৫৭ পিএম

দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী এক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাত। এরই মধ্যে যুদ্ধটি চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হারানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। ইরানের এই আগ্রাসী প্রতিরোধ যুদ্ধের সামনে শত্রুপক্ষ কার্যত নাস্তানাবুদ। এমনকি কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্ব জ্বালানি ক্ষেত্রেও লেগেছে এক বিশাল ধাক্কা।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

হরমুজ প্রণালীতে টোল বসানোর চিন্তা ইরানের, বাড়তে পারে বৈশ্বিক উত্তেজনা

তবে সংকটের এখানেই শেষ নয়; এবার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ ‘বাব এল মান্দেব’ প্রণালি নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী মাত্র ২০ মাইল চওড়া এই সরু জলপথটি এখন তেহরানের নতুন রণকৌশলের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।  

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই প্রণালির একপাশে কৌশলগত অবস্থানে থাকায় তেহরান এখন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওপর চাপ বাড়াতে এই পথটিকে সরাসরি যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি তার এই শক্তিশালী প্রক্সি বাহিনীকে সরাসরি যুদ্ধে নামায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক অপূরণীয় বিপর্যয় নেমে আসবে। ইতিমধ্যে হুথি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আবেদ আল-থাওর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তারা যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ‘নৌ-অবরোধ’ ঘোষণা করবে। মার্কিন ভূখণ্ড বা দখলকৃত ইসরায়েলি অঞ্চল অভিমুখে যাওয়া যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজ ও বিমানবাহী রণতরী এখন হুথিদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু।

লোহিত সাগরের এই সম্ভাব্য অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে ফেলেছে সৌদি আরবকে। রিয়াদ বর্তমানে হরমুজ প্রণালির অবরোধ এড়াতে তাদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনাল দিয়ে রেকর্ড তেল রপ্তানি করছে। চলতি মার্চ মাসে সৌদি আরব এই পথে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠিয়েছে। কিন্তু হুথিরা যদি লোহিত সাগরে পুনরায় হামলা শুরু করে, তবে সৌদি আরবের এই শেষ বিকল্প পথটিও চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

লয়েড’স লিস্টের বিশ্লেষক সাইমন মিলার জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হবে এবং মিশরের সুমেদ পাইপলাইন ব্যবহার করতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।

তিনি মনে করেন, লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ যদি হুথিদের হাতে চলে যায়, তবে বিশ্ব বাণিজ্যের চাবিকাঠি কার্যত ইরান ও তার মিত্রদের মুঠোয় চলে আসবে। বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন কোনো অবরোধ বিশ্ববাজারে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি ঘটাবে।

পেন্টাগন হুথি নেতাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ালেও ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে হুথিদের এই যুদ্ধে না জড়াতে কড়া সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। তবে তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সংকেত দেয়, তবে বাব এল মান্দেব প্রণালি বন্ধ হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। 

আরটিভি/এআর