images

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সের স্কুল মাঠে মিলল প্রাচীন কঙ্কাল

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ , ০১:৪২ পিএম

ফ্রান্সের ডিজঁ শহরের একটি স্কুল মাঠে খননকাজে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এক প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। জোসেফিন বেকার প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে উদ্ধার হয়েছে বসা অবস্থায় থাকা ছয়টি প্রাচীন কঙ্কাল, যাদের মধ্যে একটি কিশোর গল জাতির মানুষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আবিষ্কার ইতোমধ্যেই ‘ডিজঁ ফাইভ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রথম নজরে এটি যেন কোনো ভৌতিক চলচ্চিত্রের দৃশ্য— মাটির নিচে একটি গর্ত, কোনো অলংকার বা চিহ্ন নেই, আর সেখানে মাথা নিচু করে বসে আছে একাধিক কঙ্কাল। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের অংশ, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সব কঙ্কালই ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের। তাদের উচ্চতা ১ দশমিক ৬২ থেকে ১ দশমিক ৮২ মিটারের মধ্যে। শরীরের গঠন ও দাঁতের অবস্থা দেখে বোঝা যায়, তারা তুলনামূলকভাবে সুস্থ ছিল। তবে তাদের দেহে সহিংসতার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। একাধিক কঙ্কালের হাড়ে আঘাতের দাগ পাওয়া গেছে, আর অন্তত একজনের মাথার খুলিতে প্রাণঘাতী আঘাতের প্রমাণ মিলেছে।

সব কঙ্কালকে একটি করে প্রায় এক মিটার ব্যাস ও ৪০ সেন্টিমিটার গভীর গর্তে বসা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের হাত শরীরের পাশে নিচের দিকে, হাতের তালু পেলভিসের কাছে এবং পিঠ পূর্ব দেয়ালে ঠেকানো, মুখ পশ্চিমমুখী।

এই অস্বাভাবিক সমাধিস্থল প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তুলেছে। তারা কি অপরাধী ছিল? নাকি মানববলির শিকার? অথবা শত্রুদের দ্বারা দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য এমনভাবে কবর দেওয়া হয়েছিল?

সমাধিগুলোতে কোনো অলংকার, সামগ্রী বা কবরসামগ্রী পাওয়া যায়নি। কেবল একটি কালো পাথরের বাহুবন্ধ দেখে ধারণা করা হয়েছে, এগুলো গল যুগ-এর, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ের।

এই কঙ্কালগুলো কোনো কৌতূহলী শিশুর খোঁড়াখুঁড়িতে পাওয়া যায়নি। ফ্রান্সের জাতীয় প্রতিরোধমূলক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিকল্পিত গবেষণার অংশ হিসেবে এগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে।

ফ্রান্সে কোনো নির্মাণকাজ শুরু করার আগে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বাধ্যতামূলক। মাটির নিচে প্রাচীন নিদর্শনের সম্ভাবনা থাকলে বিশেষজ্ঞ দল কয়েক মাস ধরে খনন ও গবেষণা চালায়, যাতে ইতিহাসের কোনো চিহ্ন নষ্ট না হয়।

গত ৩০ বছরে ডিজঁ এলাকায় বহু খননে গল জাতির ব্যাপক উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। কয়েক মাস আগেই একই স্থানের কাছাকাছি আরও ১৩টি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিল।

১৯৯০-এর দশকেও নিকটবর্তী সাঁৎ-আন এলাকায় একই ধরনের সমাধি পাওয়া গিয়েছিল। এবারের আবিষ্কারটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই অঞ্চলে গলদের একটি সুসংগঠিত বসতি ছিল।

খননে একটি বড় প্রতিরক্ষামূলক খাল, চলাচলের পথ এবং পশু সমাধিস্থলেরও সন্ধান মিলেছে, যা গল যুগের শেষ পর্যায়ের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ডিএইচএস শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে তীব্র ভোগান্তি

বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫টি বসা অবস্থার গল কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ২০টিই রয়েছে ডিজঁ শহরের এই ছোট এলাকায়।

গল জাতি সম্পর্কে আমাদের অনেক তথ্যই এসেছে জুলিয়াস সিজারের লেখনী থেকে, যা পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। ফলে তাদের সংস্কৃতি ও রীতিনীতি এখনও অনেকটাই অজানা।

এই কঙ্কালগুলোর অস্বাভাবিক অবস্থান কি সম্মানের প্রতীক, নাকি অপমানের চিহ্ন— তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা আপাতত কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যায় পৌঁছাতে পারেননি। তবে তারা একমত— এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও জটিল সমাধি প্রক্রিয়ার অংশ, যার রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে