যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (টিএসএ) জনবল সংকট তীব্র হয়েছে, যা এই ভোগান্তির মূল কারণ।
টানা কয়েক সপ্তাহ বেতন না পাওয়ায় টিএসএ কর্মীদের মধ্যে অনুপস্থিতি বেড়েছে। ফলে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে তল্লাশি কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়েছে এবং যাত্রীদের অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে টেক্সাসের হিউস্টন এবং নিউইয়র্কের কুইন্সের বড় বিমানবন্দরগুলোতে ব্যস্ত সময়ে অপেক্ষার সময় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ নিরাপত্তা তল্লাশির লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে সর্বোচ্চ ৪২ মিনিট।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেডারেল সংস্থাগুলোর শাটডাউনের কারণে টিএসএ চেকপয়েন্টে অপেক্ষার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। যাত্রীদের সহায়তায় অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে আসার অনুরোধ করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে বসন্তকালীন ভ্রমণ মৌসুম সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। শিল্প সংস্থা ‘এয়ারলাইন্স ফর আমেরিকা’র হিসাব অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ যাত্রী আকাশপথে ভ্রমণ করবেন, যা গত বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা। হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও সতর্ক করে জানিয়েছে, লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। বিমানবন্দরে আসার আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখুন। অপেক্ষার সময় দিনভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ডিএইচএসের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই শাটডাউন শুরু হয়। ফেডারেল অভিবাসন নীতি, বিশেষ করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ নিয়ে সিনেটে অচলাবস্থার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
টিএসএের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রশাসক অ্যাডাম স্টাল সতর্ক করে বলেছেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ছোট বিমানবন্দরগুলো পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমাদের অতিরিক্ত জনবল পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, শাটডাউন অব্যাহত থাকলে ভ্রমণব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।
তিনি বলেন, টিএসএ কর্মীরা আবারও বেতন হারাতে যাচ্ছেন। তখন বর্তমান পরিস্থিতি তুচ্ছ মনে হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ২ হাজার ৫৫১টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং ১০৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরটিভি/এমএইচজে




