images

আন্তর্জাতিক

১৯৮৮ সাল থেকেই খার্গ দ্বীপে নজর ছিল ট্রাম্পের

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ , ০৩:৫৩ পিএম

ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু বছর আগেই এই দ্বীপ দখলের ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আবারও খার্গ দ্বীপ নিয়ে নানা বিকল্প খোলা আছে বলে মন্তব্য করায় তার পুরোনো বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

১৯৮৮ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি খার্গ দ্বীপে একটি বড় ধরনের অভিযান চালাতাম। আমি সরাসরি সেখানে গিয়ে দ্বীপটি দখল করে নিতাম। ইরান যেখানে ইরাককেই হারাতে পারছে না, সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অবজ্ঞা করছে। বিশ্বের মঙ্গলের জন্যই তাদের মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

এর বহু বছর পর, চলতি বছরের ১৩ মার্চ ফক্স নিউজ রেডিও-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই পুরোনো মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, খার্গ দ্বীপ দখল করা আপাতত তার “অগ্রাধিকার তালিকার একেবারে ওপরের দিকে নেই”। তবে একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলতে পারি।

একই দিনে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, তার নির্দেশেই ইরানের “মুকুটের মণি খার্গ দ্বীপে” ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংসের সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খার্গ দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখনও “অনেক বিকল্প” খোলা রয়েছে। তার ভাষায়, হয়ত আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করব, আবার হয়ত করব না। তবে এটি করতে হলে আমাদের সেখানে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হবে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করলেও তেল পাবেন না ট্রাম্প

সাক্ষাৎকারে আরও স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, সত্যি বলতে কি, আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হবে ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নির্বোধ লোক আছে, যারা প্রশ্ন তোলে কেন আমি এমনটা করছি। তারা আসলে বোকা লোক।

দ্বীপটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তা খাটো করে দেখিয়ে বলেন, আমার মনে হয় না তাদের কার্যকর কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারব।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

আরটিভি/এমএইচজে