ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করলেও তেল পাবেন না ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
প্রতীকী ছবি (এআই)

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত দ্বীপ খার্গ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে কার্যত সফল বলে দাবি করলেও একই সময়ে ওই অঞ্চলে উভচর যুদ্ধজাহাজ, অবতরণ নৌযান এবং হাজার হাজার মেরিন ও নৌসেনা মোতায়েনের খবরে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিবেচনা করছে।

ইরানের উপকূলের অদূরে অবস্থিত ছোট্ট এই দ্বীপটি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। গভীর সমুদ্রবন্দর থাকায় বিশাল তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারও এখানে সহজে নোঙর করতে পারে। ফলে খার্গ দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই দেখা হয়।

ওয়াশিংটনের কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপ দখল বা এর তেল স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো গেলে ইরানের অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা লাগবে। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে বাধ্য করার একটি উপায় হিসেবেও এটি বিবেচিত হতে পারে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খার্গ দ্বীপে পৌঁছাতে হলে মার্কিন বাহিনীকে প্রথমে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হবে। এই জলপথ ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দ্রুতগামী নৌযান এবং নৌ-মাইনের কারণে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। বিশেষ করে উভচর যুদ্ধজাহাজগুলো সরাসরি হামলার মুখে পড়তে পারে।

আরও বড় ঝুঁকি হলো দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে খার্গ দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। সৈকত এলাকাজুড়ে অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-আর্মার মাইন পেতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের আশঙ্কা অনেক বেশি।

এদিকে দ্বীপটিতে হাজারো তেল শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ বসবাস করায় মানবিক ঝুঁকিও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সামরিক অভিযান শুরু হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া বা নিরাপদে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

আরও পড়ুন

খার্গ দ্বীপকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ওই হামলায় দ্বীপের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তেল অবকাঠামোকে তখন সরাসরি লক্ষ্য করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোও এমন সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি খার্গ দ্বীপে সেনা নামায়, তাহলে ইরান পাল্টা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আশপাশের দেশগুলোর তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপে হামলা বা দখল সামরিকভাবে সম্ভব হলেও এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক ঝুঁকি এতটাই বেশি যে এমন সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: সিএনএন

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাকালীন সরকারি আর্থিক সহায়তার ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার (১৮ মিলিয়ন ডলার) জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ভুয়া তথ্যে করোনার ১৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান লুট, অভিযুক্ত মার্কিন নারী 
আরও পড়ুন
নির্বাচনে ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে পথ বদলানোর চাপ রিপাবলিকানদের
মার্কিনিরা তিক্ত হয়ে গেলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
‘ট্রাম্পকে তুলে ডাস্টবিনে ফেলার’ ভিডিও ভাইরাল, যা জানা যাচ্ছে
‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’, তেহরানে বিশাল বিলবোর্ডে ইরানের হুমকি