ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করলেও তেল পাবেন না ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
প্রতীকী ছবি (এআই)

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত দ্বীপ খার্গ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে কার্যত সফল বলে দাবি করলেও একই সময়ে ওই অঞ্চলে উভচর যুদ্ধজাহাজ, অবতরণ নৌযান এবং হাজার হাজার মেরিন ও নৌসেনা মোতায়েনের খবরে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিবেচনা করছে।

ইরানের উপকূলের অদূরে অবস্থিত ছোট্ট এই দ্বীপটি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের টার্মিনাল দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। গভীর সমুদ্রবন্দর থাকায় বিশাল তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কারও এখানে সহজে নোঙর করতে পারে। ফলে খার্গ দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই দেখা হয়।

ওয়াশিংটনের কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপ দখল বা এর তেল স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো গেলে ইরানের অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা লাগবে। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে বাধ্য করার একটি উপায় হিসেবেও এটি বিবেচিত হতে পারে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। খার্গ দ্বীপে পৌঁছাতে হলে মার্কিন বাহিনীকে প্রথমে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হবে। এই জলপথ ইরানের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দ্রুতগামী নৌযান এবং নৌ-মাইনের কারণে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিবেচিত। বিশেষ করে উভচর যুদ্ধজাহাজগুলো সরাসরি হামলার মুখে পড়তে পারে।

আরও বড় ঝুঁকি হলো দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে খার্গ দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। সৈকত এলাকাজুড়ে অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-আর্মার মাইন পেতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের আশঙ্কা অনেক বেশি।

এদিকে দ্বীপটিতে হাজারো তেল শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ বসবাস করায় মানবিক ঝুঁকিও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সামরিক অভিযান শুরু হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া বা নিরাপদে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

আরও পড়ুন

খার্গ দ্বীপকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার আরেকটি কারণ হলো চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ওই হামলায় দ্বীপের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তেল অবকাঠামোকে তখন সরাসরি লক্ষ্য করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোও এমন সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি খার্গ দ্বীপে সেনা নামায়, তাহলে ইরান পাল্টা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আশপাশের দেশগুলোর তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। এতে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপে হামলা বা দখল সামরিকভাবে সম্ভব হলেও এর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক ঝুঁকি এতটাই বেশি যে এমন সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: সিএনএন

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুসজ্জিত সামরিক বিমান উড়িয়ে এবং ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন।
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক ও সংকটময় সময় পার করছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এমন সময় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধ, সংঘাত ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অতীতের স্মরণীয় ঘটনাগুলোও ফিরে আসছে আলোচনায়। জাতিসংঘের ইতিহাসের এমন কিছু স্মরণীয় ও আলোচিত মুহূর্ত নিচে তুলে ধরা হলো— ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ভাষণ (১৯৬০)  জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের রেকর্ডটি কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দখলে। ১৯৬০ সালে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এই সময়ে তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কড়া সমালোচনা করেন এবং কিউবান বিপ্লবের আদর্শ তুলে ধরেন। Politics নিকিতা ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০) ১৯৬০ সালের অধিবেশনে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিজের টেবিলে সজোরে ঘুষি মারতে থাকেন। এই অধিবেশন ঘিরেই তার জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করার ঐতিহাসিক কিংবদন্তি চালু হয়। হুগো চ্যাভেজ ও ‘শয়তানের গন্ধ’ (২০০৬) ২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ পডিয়ামে উঠে বুকে ক্রস আঁকেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। আজও এখানে গন্ধকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’ গাদ্দাফির সনদ ছিঁড়ে ফেলা (২০০৯)  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০০৯ সালে ১৫ মিনিটের সময়সীমা ভেঙে টানা ১০০ মিনিট বক্তব্য দেন। নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের একটি পাতা ছিঁড়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুড়ে ফেলেন তিনি। নেতানিয়াহুর কার্টুন বোমা (২০১২)  ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অগ্রগতি বোঝাতে অধিবেশনে বোমার একটি বড় কার্টুন চিত্র প্রদর্শন করেন এবং একটি লাল কালি দিয়ে সেখানে সীমারেখা টানেন। ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)  ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং দেশটির নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেন। Politics(Right) গিলাদ এরদানের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)  ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের একটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান একটি ছোট পেপার শ্রেডার মেশিন দিয়ে অধিবেশনের সামনেই জাতিসংঘ সনদের প্রচ্ছদ পাতা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’  সম্প্রতি জাতিসংঘের মূল ভবনে প্রবেশের সময় এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করলেও জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত এস্কেলেটরের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামে চাপ দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। এসব নাটকীয় ঘটনা ছাড়াও দীর্ঘ ভাষণ ও ক্লান্তিকর সূচির কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব নেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। সূত্র: ওয়াননিউজ আরটিভি/এসআর
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
আবারও আন্দোলনে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তরুণদের সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি।
আবারও আন্দোলনে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি
পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক
পবিত্র মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের একাধিক কৌশলগত অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 
পবিত্র মক্কায় জরুরি সতর্কতা জারি, সৌদিজুড়ে হামলার আতঙ্ক
আরও পড়ুন
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
ইসরায়েলকে জমি দিতে চাইলে নিউ জার্সি দিয়ে দিন: ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিং, ট্রাম্পের নজিরবিহীন আয়োজন
গাজা নিয়ে ট্রাম্পকে তুলোধুনো ম্যাক্রোঁর