মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ০২:১৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। সোমবার(৩০ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছেন দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা। একই সময়ে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে জানা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন এই মোতায়েনকে ঘিরে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম অভিজাত, সুপ্রশিক্ষিত ও দ্রুত মোতায়েনযোগ্য প্যারাশুট অ্যাসল্ট ফোর্স। এই ইউনিটের সদস্যরা শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্যারাশুটের মাধ্যমে নেমে দ্রুত যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।
তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এলিট কমব্যাট ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে এই ইউনিটের সেনারা আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই সেনারা ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনী, মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনাও ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ঠিক কোথায় এই বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নতুন এই মোতায়েনকৃত বাহিনীর মধ্যে রয়েছে, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের কিছু সদস্য, রসদ (লজিস্টিক) ও সহায়ক ইউনিট, একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম,ইরানে সরাসরি স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
যদিও এখনো ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক অভিযান প্রয়োজন হলে তার জন্য মাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাহিনীকে নানা ধরনের অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ইরানের খার্গ দ্বীপ।
খার্গ দ্বীপকে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই হয়। ফলে, কোনো সামরিক সংঘাতের সময় এই অঞ্চলকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে সহজেই ওই এলাকায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে।
এর আগে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলে স্থলবাহিনী ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় এসেছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত নিলে মার্কিন সেনাদের ইরানের গভীরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হতে পারে।
আরেকটি সম্ভাব্য পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলীয় এলাকায়ও সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। যদিও এমন অভিযান শুরুতে বিমান ও নৌবাহিনী নির্ভর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, পরে প্রয়োজনে স্থলবাহিনীও যুক্ত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র একটি “ভালো সরকারব্যবস্থা”-এর সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে, না হলে ইরানের তেলক্ষেত্র ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নতুন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থন সীমিত। তাছাড়া ট্রাম্প এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু করবেন না।
এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১১ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরানের অভ্যন্তরে স্থলবাহিনী ব্যবহার করে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এমন পদক্ষেপ নিলে মার্কিন সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর স্থল অভিযানে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
সূত্র : রয়টার্স।
আরটিভি/এসকে