ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্ফাহানে ভয়াবহ বিমান হামলার দাবি উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটির একটি বড় অস্ত্রাগার বা গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিস্ফোরণের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্যসম্বলিত ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটির স্থান, সময় ও প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হামলায় শক্তিশালী বাঙ্কার-বিধ্বংসী বোমা, যার মধ্যে ২ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের বোমাও ছিল, ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লক্ষ্যবস্তু ছিল ইস্ফাহানের একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো।
ইরানি গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার পর লক্ষ্যবস্তু এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং তার কিছু অংশ আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে গোটা শহর কেঁপে ওঠে। তবে এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট সরকারি হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রায় ২৩ লাখ মানুষের আবাসস্থল ইস্ফাহান শুধু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের জন্যই নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরটিতে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া ইস্ফাহান অঞ্চলে পরমাণু কর্মসূচি-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট সামরিক সুবিধাও রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ হামলার ঘটনায় ইরান সরকার বা দেশটির সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
JUST IN: 🇮🇷🇺🇸🇮🇱 Isfahan shaken by massive blasts following U.S.-Israeli strikes. pic.twitter.com/0lTBhJ0b7C
— Donald J Trump Posts TruthSocial (@TruthTrumpPost) March 31, 2026
বিশ্লেষকদের মতে, ইস্ফাহানের মতো কৌশলগত শহরে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র : এনডিটিভি
আরটিভি/এসকে




