images

আন্তর্জাতিক / ইউরোপ / যুক্তরাষ্ট্র

হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের সব সোনা সরিয়ে নিলো ফ্রান্স

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৪৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার তাগিদে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাংক (ফেডারেল রিজার্ভ) থেকে নিজেদের গচ্ছিত সোনা সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। এই তালিকায় সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় পদক্ষেপটি নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভে থাকা তাদের অবশিষ্ট সব সোনা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ভল্টে ফিরিয়ে নিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা ফ্রান্সের অবশিষ্ট ১২৯ টন সোনা দেশটি বিক্রি করে দিয়েছে। তবে এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে তারা সমপরিমাণ নতুন সোনা কিনে সরাসরি প্যারিসে নিজেদের ভল্টে সংরক্ষণ করেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফ্রান্সের সোনার মজুত এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এল।

আরও পড়ুন
15

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাস নেই, ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে: আইআরজিসি

ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এই বিশাল স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং সোনার রিজার্ভকে আধুনিক করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি একে কোনো ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখতে নারাজ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নিজেদের সম্পদের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতেই প্যারিস এই পথে হেঁটেছে।

ফ্রান্সের পাশাপাশি জার্মানিও তাদের সোনার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর ফলে গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে ইউরোপীয় দেশগুলোর সোনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ইউরোপের অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে এবং নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে তাদের সোনার বড় অংশ আমেরিকায় জমা রাখতে শুরু করে। কয়েক দশক ধরে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থার অধীনে এই সোনা মার্কিন ভল্টেই সংরক্ষিত ছিল।

তবে বর্তমান সময়ের জটিল ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইউরোপের দেশগুলো এখন নিজেদের সম্পদ নিজ দেশে রাখার দিকেই বেশি ঝুঁকছে। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর দেশগুলো নিজেদের জাতীয় সম্পদের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

আরটিভি/এআর