শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:১৫ পিএম
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের সংখলা প্রদেশে একটি সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্ট থেকে ২১ জন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমারের এক নারীসহ মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় রিসোর্টটির মালিককেও আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে চানার নাথাব উপজেলায় অবস্থিত একটি বন্ধ রিসোর্টে অভিবাসন বিভাগ ও পর্যটন পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, সেখানে অবৈধ অভিবাসীদের রাখা হয়েছে।
অভিযানকালে রিসোর্টটি বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতর থেকে বিদেশি ভাষায় কথাবার্তা শোনার পর সন্দেহ জাগে কর্মকর্তাদের। পরে একটি পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে গোপন কক্ষ থেকে ২২ জন বিদেশিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
আটককৃতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি পুরুষ এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। গ্রেপ্তারের পর তারা অভিযোগ করেন, রিসোর্টের মালিক তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে রেখেছিল।
পরে রিসোর্টের মালিক কৃতিদেতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তার কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বাক্স থেকে ১৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি দাবি করেন, অভিবাসীদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং ধারণা করেন, তাদের আনা চালকই ফোনগুলো তার কক্ষে রেখে পালিয়ে গেছে।
আটক অভিবাসীরা দোভাষীর মাধ্যমে জানান, তারা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালদের প্রত্যেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা দিয়েছেন। তারা প্রথমে বাংলাদেশ থেকে বিমানে কম্বোডিয়া যান। এরপর ৪ এপ্রিল সাকায়েও সীমান্ত দিয়ে হেঁটে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেন। সেখানে কয়েকদিন বিভিন্ন স্থানে রাখার পর ধাপে ধাপে তাদের সরানো হয়।
বুধবার ভোরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের ওই রিসোর্টে আনা হয়। চালক তাদের একটি পরিত্যক্ত ভবনে রেখে যায় এবং জানায়, তাদের মোবাইল ফোন রিসোর্ট মালিকের কাছে রাখা হয়েছে।
এদিকে আটক মিয়ানমারের নারী জানান, তিনি মালয়েশিয়ায় কর্মরত স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। তিনি চিয়াং রাই সীমান্ত দিয়ে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে পরে ব্যাংকক থেকে একই গাড়িতে করে রিসোর্টে পৌঁছান।
থাই পুলিশ জানিয়েছে, রিসোর্ট মালিকের বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া ও পালাতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আটক বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সবাইকে খুয়ান মীদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে