শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০৭ এএম
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগ মুহূর্তে আবারও বিস্ফোরক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেহরানকে সরাসরি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দাবি করেন ইরানের হাতে এখন কোনো ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই। ট্রাম্পের
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন “ইরানের হাতে এখন দরকষাকষির মতো কোনো কার্ড নেই। তারা শুধু আন্তর্জাতিক জলপথ (হরমুজ প্রণালি) নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখছে। ইরানের নেতারা এখনো কেবল আলোচনার সুযোগ পাওয়ার কারণেই টিকে আছে।” ট্রাম্পের এই সরাসরি অবমাননাকর উক্তিকে অনেক বিশ্লেষক তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের এই বিশেষ আলোচনা যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয় তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আবারও ইরানে পূর্ণশক্তিতে হামলা শুরু করতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না।
তিনি আরও বলেন “আমরা প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল জানতে পারব।” অর্থাৎ এই আলোচনা সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ইরান সত্যিই সব পারমাণবিক সক্ষমতা ছেড়ে দেবে কি না তা নিয়ে নিজের গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি ইরানি নেতাদের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে বলেন “আমরা জানি না তারা সত্যি বলছে কি না। তারা ক্যামেরার সামনে বলছে সব পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে দেবে কিন্তু পর্দার আড়ালে গিয়ে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে চায়।” এই অবিশ্বাসের দোলাচলের মধ্যেই পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।
এদিকে, ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরপরই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, দুটি বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত না হলে তারা কোনো আলোচনাতেই বসবে না। প্রথমত লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত বিদেশি ব্যাংকে আটকে পড়া ইরানের কোটি কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে।
আরটিভি/এআর