রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:২২ পিএম
সুইজারল্যান্ডের একটি হ্রদের তলদেশ থেকে প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো রোমান সাম্রাজ্যের এক হাজারেরও বেশি নিদর্শন উদ্ধার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। বিরল এই আবিষ্কারকে বিশেষজ্ঞরা “অসাধারণ” হিসেবে বর্ণনা করছেন।
লেক ন্যুশাতেলে ডুব দিয়ে অনুসন্ধান চালানোর সময় প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্যাবিয়েন ল্যাঙ্গেনেগার ও জুলিয়েন পফিফার প্রথম এই নিদর্শনগুলোর সন্ধান পান। শুরুতে তারা ভেবেছিলেন, পানির নিচে পড়ে থাকা গোলাকার বস্তুগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাইন হতে পারে।
কিন্তু আলো ফেলার পরই দৃশ্য পাল্টে যায়। জুলিয়েন পফিফার বলেন, ক্যামেরার আলো জ্বালাতেই টেরাকোটার পরিচিত রং চোখে পড়ে। ভাঙা কিছু প্লেট দেখে আমরা বুঝতে পারি—এটি একটি অসাধারণ আবিষ্কার।
এই আবিষ্কারটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের শেষ দিকে, তবে লুটপাটের আশঙ্কায় বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখা হয়। পরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দীর্ঘমেয়াদি খনন কার্যক্রম চালিয়ে অক্টোপাস ফাউন্ডেশনের গবেষকরা এক হাজারেরও বেশি নিদর্শন উদ্ধার করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এগুলো সম্ভবত একটি পণ্যবাহী জাহাজের মালামাল ছিল, যা খ্রিস্টাব্দ ২০ থেকে ৫০ সালের মধ্যে ডুবে যায়। একটি বাক্সে ১৭ খ্রিস্টাব্দের তারিখও পাওয়া গেছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- মাটির তৈরি বিভিন্ন বাসনপত্র, যা সম্ভবত সুইজারল্যান্ডে তৈরি হয়ে কোনো রোমান শিবিরে পাঠানো হচ্ছিল। এমনকি কিছু পাত্রের ভেতরে খাবারের অবশিষ্টাংশও পাওয়া গেছে, যা এখন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এছাড়াও মিলেছে সৈন্যদের ব্যবহৃত সামগ্রী— যেমন দুটি তলোয়ার, একটি ছুরি, বেল্টের বকল এবং ফিবুলা (বস্ত্র আটকানোর ক্লিপ)। এসব থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে রোমান সৈন্যরা পাহারায় ছিল। গবেষকদের মতে, এত পরিমাণ সামগ্রী সম্ভবত প্রায় ৬ হাজার সৈন্যের একটি লেজিয়নের জন্য পাঠানো হচ্ছিল।
একটি ঝুড়িও পাওয়া গেছে, যা আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত রয়েছে। এর ভেতরে ছয়টি ভিন্ন ধরনের মাটির পাত্র ছিল, যা সম্ভবত জাহাজের নাবিকদের ব্যক্তিগত ব্যবহার বা খাবারের জন্য ছিল।
তবে এখনও জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর আগে জার্মানির রাইন নদী এবং ফ্রান্সের রোন নদীতেও রোমান জাহাজের সন্ধান মিলেছে।
গবেষকরা জানান, পানির নিচে থাকা এসব নিদর্শন নোঙর, জাল কিংবা চোরের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এগুলো পরিষ্কার ও সংরক্ষণের কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ হলে এসব নিদর্শন থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে— যেমন নির্মাণের চিহ্ন, খাবারের অবশেষ কিংবা পাত্রগুলোর মাঝে খড়ের ব্যবহার।
উদ্ধার করা এই নিদর্শনগুলো ভবিষ্যতে লাতেনিয়াম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালে একটি বই ও প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে গবেষণা দল।
গবেষকদের মতে, বিশ্বের জাদুঘরগুলোর চেয়েও বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন এখনও সমুদ্র ও হ্রদের তলদেশে লুকিয়ে আছে— যা ভবিষ্যতে আরও চমকপ্রদ আবিষ্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: ইয়াহু
আরটিভি/এমএইচজে