ঢাকা রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হুমকির মুখে বিশ্বের বিলাসবহুল সুগন্ধি তৈরির উপাদান ‘মির’ গাছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইথিওপিয়ার সোমালি অঞ্চলের আফকাড্ডে— একটি অন্ধকার রাস্তার পাশের ছোট রেস্তোরাঁ। রান্নার ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে আছে পোড়ানো ‘মির’-এর গন্ধ। পোকামাকড় ও সাপ তাড়াতে এখানে মির পোড়ানো হয়। অথচ এই মিরই বিশ্বের নামী সুগন্ধি তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা এখন ঐতিহাসিক খরার কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে।

এই মূল্যবান রেজিন পাওয়া যায় কমিফোরা মিরা (Commiphora myrrha) নামে গাছ থেকে, যা হর্ন অব আফ্রিকার শুষ্ক অঞ্চলে জন্মায়। একসময় এই গাছগুলো ঘন বন গড়ে তুলেছিল। কিন্তু এখন পানির অভাব এবং ক্ষুধার্ত গবাদিপশুর আক্রমণে গাছগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি আমেরিকান হারবাল প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং বোর্ন গ্লোবালের সহায়তায় একদল গবেষক এই অঞ্চল পরিদর্শন করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল— মির সংগ্রহকারীরা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে নয়, সরাসরি বাজারে বিক্রি করে ন্যায্য দাম পান।

ইথিওপিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান মির উৎপাদক দেশ। প্রাচীন প্রাচীন মিশরের সময় থেকেই সৌন্দর্যচর্চা, চিকিৎসা এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মির ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এখানকার মানুষ এখনও ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে গাছের স্বাভাবিক ক্ষত থেকে রেজিন সংগ্রহ করেন— যা গাছকে সুরক্ষিত রাখে এবং উচ্চমানের মির উৎপাদনে সহায়ক।

তবে এত পরিশ্রমের পরও সংগ্রাহকদের আয় খুবই কম। প্রতি কেজি মির বিক্রি করে তারা মাত্র ৩ দশমিক৫০ থেকে ১০ ডলার পান। অথচ এই মির ব্যবহার করে তৈরি সুগন্ধি বিশ্ববাজারে ৫০০ ডলার পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। এই সুগন্ধিগুলো বাজারজাত করে টম ফোর্ড, কোম দে গারসঁ এবং জো ম্যালোনের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খরা পরিস্থিতি দিন দিন তীব্র হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত বৃষ্টি ব্যাহত হয়েছে, আর ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক গাছগুলো বেঁচে থাকলেও রেজিন উৎপাদন কমে গেছে, আর নতুন চারাগাছ টিকে থাকতে পারছে না।

আরও পড়ুন

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, শিশুরা গবাদিপশু চরাতে গিয়ে অনেক সময় ছোট চারাগাছ উপড়ে ফেলে, আবার পশুরা নতুন কুঁড়ি খেয়ে ফেলে। এতে মির গাছের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

পানির সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক পশুপালককে পানির সন্ধানে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। একটি মাত্র কূপের চারপাশে শত শত গবাদিপশুর ভিড় দেখা যায়। সেখানে প্রথমে অতিথিদের পশুকে পানি খাওয়ানো হয়, তারপর গ্রামের মানুষ পানি পায়।

সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের জন্য মির সংগ্রহই একমাত্র আয়ের উৎস। তাই তারা আশা করছেন, যদি সরাসরি বাজারব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাহলে তারা ন্যায্য দাম পাবেন এবং টিকে থাকতে পারবেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা— যদি খরা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয়, তাহলে একসময় এই মির গাছ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর এর সঙ্গে হারিয়ে যাবে হাজারো মানুষের জীবিকা ও একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম।
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখতে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সিনেটর
নিউইয়র্কে তৈরি হচ্ছে ২৫ হাজার আসনের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সে তৈরি হতে যাচ্ছে শহরটির প্রথম নিজস্ব পেশাদার সকার স্টেডিয়াম।
নিউইয়র্কে তৈরি হচ্ছে ২৫ হাজার আসনের প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সকার স্টেডিয়াম
রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় টিকটিকির নতুন একটি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা ক্ষুদ্র এই সরীসৃপের বাহারি রং ও শরীরের বিশেষ নকশা গবেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। পেরুর সান মার্কোস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর নতুন এই প্রজাতি আবিষ্কারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘লিওলাইমাস আর্কিপেনসিস’। দক্ষিণ পেরুর আরেকিপা অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার বা ১৫ হাজার ৭৫০ ফুট উচ্চতায় প্রজাতিটির সন্ধান পাওয়া যায়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই টিকটিকির দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ থেকে ৮ সেন্টিমিটার। খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ছোট উদ্ভিদের পাশাপাশি মাকড়সা, গুবরে পোকা ও অন্যান্য পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে এই প্রজাতির টিকটিকি। নতুন প্রজাতিটির পুরুষ ও স্ত্রী সদস্যদের শরীরের রং এবং নকশায় পার্থক্য দেখা যায়। স্ত্রী টিকটিকির পিঠে রয়েছে বর্গাকার দাগ। অন্যদিকে, পুরুষদের পিঠে দেখা যায় তির্যক দাগ ও সাদা আঁশ। গবেষকদের ধারণা, এসব বৈশিষ্ট্য পাথুরে পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে মিশে শিকারির চোখ এড়িয়ে চলতে সহায়তা করে। গবেষণাটির প্রধান জীববিজ্ঞানী লিং হুয়ামানি-ভালদেররামা জানান, পেরুতে বর্তমানে ২৯৬ প্রজাতির টিকটিকি রয়েছে। নতুন এই প্রজাতির আবিষ্কার দেশটির সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের জ্ঞানের পরিধি আরও বাড়াবে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘ডাইভারসিটি’-তে। উচ্চ পর্বতাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশেও প্রাণীদের অভিযোজন এবং জীববৈচিত্র্যের অজানা দিক উন্মোচনে এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   আরটিভি/এসকে
রঙিন টিকটিকির নতুন প্রজাতি আবিষ্কার
রেডিও-রাডার বিচ্ছিন্ন, মাঝ আকাশে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে ছয় আরোহী নিয়ে একটি চিকিৎসাবাহী বিমান নিখোঁজ হয়েছে।
রেডিও-রাডার বিচ্ছিন্ন, মাঝ আকাশে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান
আরও পড়ুন
সাংবাদিককে হুমকি ও জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ: এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
তথ্য চেয়ে আবেদন করায় সাংবাদিককে ইউএনওর হুমকি
জাবি অধ্যাপকের কাছে চাঁদা দাবি, সন্তানকে অপহরণের হুমকি
ট্রাম্পকে ইরানের ৭ শর্ত, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ হুমকি