images

আন্তর্জাতিক

টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৪৪ পিএম

টাইটানিক জাহাজটি যখন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটি লাইফবোটের সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরে এক যাত্রী। সেই যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে লাইফ জ্যাকেটটি নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) বিক্র হয়েছে।

এই লাইফ জ্যাকেটটি পরেছিলেন বিলাসবহুল ওই জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি। জ্যাকেটিতে লরা এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্য বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।

পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডিভাইজেসে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’-এর টাইটানিকের স্মারক বিক্রির আয়োজনে এই জ্যাকেটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিলামের আগে এটির দাম আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডের মধ্যে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি টেলিফোনে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দামে এটি কিনে নেন।

একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন বা বসার গদি ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক এটি কিনে নেন। 

উল্লেখ্য, বিক্রিত এই দামের মধ্যে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ফি বা ‘বায়ার্স প্রিমিয়াম’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একইসঙ্গে সেইসব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এটি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন যাদের জীবনকাহিনী এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং কার্যত ‘ডোবার অযোগ্য’ হিসেবে প্রচারিত টাইটানিক জাহাজটি ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়। জাহাজের ২ হাজার ২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন
copy

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ঝুঁকিতে পড়তে পারে পারস্য উপসাগরের বিস্ময়কর জগৎ

টাইটানিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও মানুষের মাঝে এক ধরনের মোহ কাজ করে। আংশিকভাবে এর কারণ ছিল জাহাজে থাকা দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রভাবশালী—সব স্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি।

লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই জাহাজে তার নিয়োগকর্তা তথা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। তখন সমুদ্রের বরফশীতল পানি থেকে অন্য ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার না করায় পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

টাইটানিকের স্মারক হিসেবে নিলামে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির বিশ্বরেকর্ডটি বর্তমানে ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডের (তৎকালীন হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ডলার)। ২০২৪ সালে আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ি এই দামে বিক্রি হয়েছিল। কার্পেথিয়া ছিল সেই উদ্ধারকারী জাহাজ, যেটি টাইটানিকের ৭০০ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করেছিল।

আরটিভি/এমএ