মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:৩৩ পিএম
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের প্রভাব এবার পড়েছে ভারতের সিরামিক শিল্প খাতে। যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় ভারতের গুজরাটের মোরবি এলাকার শত শত সিরামিক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ভারতের গুজরাট রাজ্যের মোরবি শহরকে দেশের সবচেয়ে বড় সিরামিক শিল্প কেন্দ্র ধরা হয়। এখানে ছয় শতাধিক কারখানায় প্রায় চার লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এর বেশির ভাগই উত্তর প্রদেশ ও বিহারের মতো দরিদ্র রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক।
কারখানাগুলোতে টাইলস, বাথটব, বেসিনসহ নানা ধরনের সিরামিক শিল্প পণ্য তৈরি হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে জ্বালানি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় অন্তত ৪৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
শ্রমিক প্রদীপ কুমার সাত বছর ধরে একটি কারখানায় কাজ করতেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মাটি, বালি ও কোয়ার্টজ দিয়ে পণ্য তৈরির কাজ করতেন তিনি। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি হঠাৎই কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে চাকরি হারান তিনি। চাকরি হারানোর পাঁচ দিনের মাথায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি নিজের বাড়ি উত্তর প্রদেশের হারদোই জেলায় ফিরে যান। প্রদীপ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, 'এখন পর্যন্ত কোনো কাজ পাইনি। সংসার চালাতে ধারও করতে হয়েছে।'
মোরবির সিরামিক শিল্প কারখানাগুলোতে চুল্লি জ্বালাতে মূলত গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
মোরবি সিরামিক শিল্প প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মনোজ আরভাদিয়া আল জাজিরাকে জানান, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই লাখ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে গেছেন।
এদিকে শ্রমিকদের মধ্যে আরেকটি বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক শ্রমিক দীর্ঘদিন ধুলাবালির মধ্যে কাজ করার কারণে সিলিকোসিস নামে গুরুতর ফুসফুস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শ্রমিক অঙ্কুর সিং আল জাজিরাকে জানান, কারখানা বন্ধ হয়ে বাড়ি ফেরার পর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে তিনি সিলিকোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন।
শ্রম অধিকারকর্মী চিরাগ চাভদা আল জাজিরাকে বলেন, মোরবির অনেক কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো মানা হয় না। ফলে ধুলাবালির মধ্যে দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের এই শিল্প খাত এখন বড় সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিন চললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/জেএমএ