বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম
বিশ্ব অর্থনীতি যখন জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় টালমাটাল, তখন নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিল ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুট মালাক্কা প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক বা টোল আরোপের প্রস্তাব তুলেছে জাকার্তা। তবে এই প্রস্তাব আসার পরপরই তীব্র আপত্তি জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাকার্তায় আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সাদেওয়া এই প্রস্তাবটি সামনে আনেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর নির্দেশনা অনুযায়ী ইন্দোনেশিয়া আর নিজেদের ‘প্রান্তিক দেশ’ হিসেবে দেখতে চায় না। ইরানের হরমুজ প্রণালির আদলে মালাক্কা প্রণালি থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করাই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।
তবে অর্থমন্ত্রী নিজেও স্বীকার করেছেন, এককভাবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ মালাক্কা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ বিষয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ঐকমত্য ছাড়া এটি কেবল একটি প্রাথমিক চিন্তাভাবনা হিসেবেই থাকছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তিনি সম্পদ ব্যবহারে রক্ষণাত্মক মনোভাব ত্যাগ করে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও জোরালো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান জানিয়েছেন, মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন দ্বারা স্বীকৃত। এখানে টোল আদায়ের কোনো সুযোগ নেই, বরং এই পথটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখাই জরুরি।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি বলেন, মালাক্কা প্রণালিতে চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে মালয়েশিয়া বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা মেনে চলা তাদের অঙ্গীকার। বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল এই দেশগুলো মনে করছে, এখানে কোনো প্রকার শুল্ক বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আরটিভি/এআর