images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে চাকরি হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতে। দেশটিতে গত কয়েক মাসে প্রায় ২০ লাখ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা এবং যুদ্ধের দ্বিমুখী ধাক্কা সামলাতে গিয়ে দেশটির শ্রমবাজার এখন ধসে পড়ার উপক্রমে পৌঁছেছে। 

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকেও এই বিপুল কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও রুটিরুজির পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ উপমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মদী জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কর্মসংস্থান হারানোর এই মিছিল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। কেবল বিমান হামলার শিকার হওয়া কারখানাগুলোই নয় বরং খুচরা ব্যবসা, আমদানি রপ্তানি খাত এবং ডিজিটাল অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ ইরানিদের মধ্যে চলছে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা। 

আরও পড়ুন
9

হরমুজ থেকে দুটি ইসরায়েলি জাহাজ আটক করলো ইরান

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কায় অন্তত ১০ লাখ মানুষ সরাসরি কাজ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের তেল-গ্যাস ক্ষেত্র, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ডিজিটাল অর্থনীতিও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইরানের সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ আশঙ্কা করছেন, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক—অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকার নতুন প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কর্মসূচি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন গোলাম হোসেন মোহাম্মদী। তিনি বলেন, ‘এ বছর আমাদের লক্ষ্য শুধু সংখ্যা নয়, বরং গুণগত মানের দিকে। পুনর্গঠন কাজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’

আরটিভি/এআর