images

আন্তর্জাতিক / ইউরোপ

ইরান যুদ্ধে না জড়িয়েও বড় বিপদের মুখে জার্মানি! 

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক কোনো সংঘাতে লিপ্ত না থেকেও ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে জার্মানি। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির কর্পোরেট খাতে দেউলিয়া হওয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে জার্মানির শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং অন্তত দুই লাখ কর্মীর চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আঁচ লেগেছে জার্মানির উৎপাদন ও বাণিজ্য খাতে, যা দেশটির শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য এক কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। 

জার্মানিতে কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের কারণে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে ক্রেডিট ইনস্যুরার অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দেশটির ব্যবসায়িক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। এসব কারণে জার্মানির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে গত ১৪ বছরের মধ্যে এ বছর দেউলিয়াত্বের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড শাখার প্রধান মিলো বোগার্টস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে যে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে। 

তিনি বলেন, কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের যে ধারা শুরু হয়েছে তাতে এ বছর জার্মানিতে দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে বছরে ২৪ হাজার ৬৫০টি কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতির ওপর সরাসরি আঘাত আনছে।

আরও পড়ুন
10

ইরানে চাকরি হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ

গত বছরের পরিসংখ্যানেও এমন অশনি সংকেতের দেখা মিলেছিল। জার্মানির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর স্থানীয় আদালতগুলোতে ২৪ হাজার ৬৪টি দেউলিয়াত্বের মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০.৩ শতাংশ বেশি ছিল। 

তবে এ পরিস্থিতি কেবল জার্মানি নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও উদ্বেগজনক। অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের মতে, সামগ্রিকভাবে বিশ্বব্যাপী কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের হার ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তাদের পূর্বের পূর্বাভাস সংশোধন করে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়া এবং জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা এই মন্দার কবলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতির একটি ক্ষীণ আশা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী বছরে জার্মানিতে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা ২ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ১৫০টিতে নেমে আসতে পারে। যুদ্ধজনিত উত্তেজনা যদি ধীরে ধীরে প্রশমিত হয় এবং সরকার যদি অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর করতে পারে, তবে জার্মানি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। 

আরটিভি/এআর