বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৫৩ পিএম
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপীয় অঞ্চলের মুদ্রাস্ফীতিকে ৩ শতাংশে ঠেলে দিয়েছে, যা নীতি-নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল হতাশাজনক। এই ধীর প্রবৃদ্ধির সঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি যুক্ত হয়ে অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর মতো বিরল ও জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়ানো হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা করলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এমন নাজুক অবস্থায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে, অন্যদিকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও একই পথে হাঁটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা এখন সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন যে, মুদ্রাস্ফীতির এই ঢেউ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে অর্থনীতিতে স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করে কি না।
আরটিভি/এমআই