নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে এবং বিদেশি নির্ভরতা কাটাতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া। ইরান বা তুরস্কের মতো দেশগুলোর পথ অনুসরণ করে দেশটি এখন নতুন প্রজন্মের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও যুদ্ধক্ষেত্রের উন্নত প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে।
নাইজেরিয়ার আবুজাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টেররা ইন্ডাস্ট্রিস সম্প্রতি এই নতুন ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং বিভিন্ন যুদ্ধকালীন সিস্টেম সামনে এনেছে। খবর দ্য ডিফেন্স পোস্টের।
টেররা ইন্ডাস্ট্রিসের প্রধান নির্বাহী ন্যাথান নওয়াচুকু জানান, স্থানীয় সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা করতেই এসব প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) এবং ড্রোন-ভিত্তিক হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন উন্মোচিত এই প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ড্রোন ধ্বংসকারী ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, মাইন অপসারণে সক্ষম মানববিহীন যান এবং বিদ্রোহী দমনের জন্য বিশেষ যুদ্ধক্ষেত্রের গোয়েন্দা সফটওয়্যার।
নাইজেরিয়ার সামরিক উৎপাদন তদারকি প্রতিষ্ঠান 'ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিস কর্পোরেশন অব নাইজেরিয়া' (ডিকন) এখন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। ডিকনের মেজর জেনারেল বাবাতুন্দে আলায়া বলেন, স্থানীয় যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রয়োজন বুঝে প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটি এখন পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চলের অন্যতম প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নাইজেরিয়া আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও কাজ করছে। গত এপ্রিল মাসে ডিকন ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের সঙ্গে মিলে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম এবং সাইবার সমাধানের উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতা স্মারক এবং স্থানীয়ভাবে সামরিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে দেশটিতে।
আরটিভি/এআর




