শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ০৫:২০ পিএম
উগান্ডায় অবৈধ অভিবাসন এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ২৩১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া বসবাস, মানবপাচার এবং সাইবার জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী কাম্পালায় এই বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। খবর ডয়চে ভেলের।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাম্পালার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিক বসবাস করতেন এবং তাদের জন্য নিজস্ব রেস্তোরাঁসহ সব ধরণের অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা ছিল। সেখান থেকেই ১৬৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৬ জন নারী রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, ঘানা, মিয়ানমার, ইথিওপিয়া, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া এবং মালয়েশিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।
উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আটককৃতদের মধ্যে অনেকে দাবি করেছেন যে তাদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে উগান্ডায় পাচার করা হয়েছে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে সরাসরি অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার-স্ক্যামিংয়ে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। অনেক ক্ষেত্রে তল্লাশি চালিয়ে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং পাসপোর্টের অভাবও ধরা পড়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইমন পিটার মুন্ডেয়ি জানান, আটককৃতদের তিনটি পৃথক শ্রেণিতে ভাগ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—পাচারের শিকার ব্যক্তি, অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া অবৈধ অভিবাসী। বর্তমানে তাদের দুটি আলাদা স্থানে রেখে আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
মুন্ডেয়ি আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা করা হবে। তবে যারা পাচারের শিকার হয়েছেন বা যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের টিকিট কেটে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সহায়তা করবে। তবে পাচারের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরই কেবল ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আরটিভি/এআর