রোববার, ০৩ মে ২০২৬ , ০৮:০৮ এএম
ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি কোনো ধরনের 'দুর্ব্যবহার' বা 'খারাপ কিছু' করার চেষ্টা করে, তবে আবারও দেশটিতে হামলা চালানো হবে।
শনিবার (২ মে) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান দরকষাকষিতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব চরম বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং তারা জানেই না তাদের নেতা কে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি আর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি ১৪ দফা প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ধারণা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তারা আমাকে চুক্তির বিষয়ে কিছু প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে, এখন তারা এর সুনির্দিষ্ট ভাষা ও বিস্তারিত রূপরেখা পাঠাবে।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের ডেপুটি মোহাম্মদ জাফর আসাদিও যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার মতে, ওয়াশিংটনের উসকানিমূলক আচরণ পরিস্থিতিকে আবারও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামাবাদ আলোচনা থেকে শুরু করে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত তেহরান যথেষ্ট নমনীয়তা দেখালেও যুক্তরাষ্ট্র তার মর্যাদা দেয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামের সেই হামলায় খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন । পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৭ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মেয়াদ ২৩ এপ্রিল শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই অন্য পক্ষের ওপর হামলা চালায়নি। তবে, কোনও ধরনের সমঝোতায়ও পৌঁছাতে পারেনি তারা।
আরটিভি/এআর