images

আন্তর্জাতিক

অপরাধীদের শাস্তি হিসেবে মানবভক্ষণ করে যে আদিবাসী গোষ্ঠী

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০২:৪৯ পিএম

পাপুয়া নিউ গিনির গভীর অরণ্যে বসবাসকারী বিচ্ছিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী করোয়াই সম্প্রদায়ের কিছু প্রথা বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা চুরি বা গুরুতর অপরাধের শাস্তি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করে তার দেহ ভক্ষণ করে।

ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ড্রু বিনস্কি সম্প্রতি ওই অঞ্চলে সফর করে করোয়াই ও তাদের প্রতিবেশী মোমুনা সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, করোয়াইরা মানবদেহ ভক্ষণকে খাদ্যাভ্যাস হিসেবে নয়, বরং তাদের নিজস্ব বিচারব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখে।

তিনি জানান, করোয়াইদের বিশ্বাস অনুযায়ী ‘খাকুয়া’ নামে এক ধরনের অশুভ আত্মা মানুষের শরীরে ভর করতে পারে। তাদের ধারণা, রহস্যজনক মৃত্যু বা অজানা রোগব্যাধির জন্য এই অশুভ শক্তিই দায়ী। ফলে যাদের ওপর এমন সন্দেহ পড়ে, তাদের হত্যা করে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ভ্যাম্পায়ার কি মিথ? তাহলে তাদের মারার অস্ত্র কেন তৈরি হয়েছিল?

করোয়াই সম্প্রদায়ের সদস্যরা এখনও অনেকটাই আধুনিক সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা সাধারণত খুব কম পোশাক পরিধান করে এবং শিকার ও আত্মরক্ষার জন্য ধনুক-বাণ ব্যবহার করে।

গবেষকদের মতে, ১৯৭৪ সালের আগে পর্যন্ত তারা বাইরের বিশ্বের অস্তিত্ব সম্পর্কেও খুব কম জানত।

নৃবিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মানবভক্ষণ প্রাচীন পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে একসময় প্রচলিত ছিল। তবে আধুনিক যুগে করোয়াইদের মতো কয়েকটি বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যেই কেবল এ ধরনের প্রথার অস্তিত্বের কথা শোনা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব তথ্যের অনেকটাই ভ্রমণকাহিনি ও পর্যবেক্ষণভিত্তিক। তাই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। সূত্র: ডেইলি এক্সপ্রেস

আরটিভি/এমএইচজে