ভ্যাম্পায়ার কি মিথ? তাহলে তাদের মারার অস্ত্র কেন তৈরি হয়েছিল?

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:৩৫ পিএম


ভ্যাম্পায়ার নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান
প্রতীকী ছবি

অনেকেই ভ্যাম্পায়ার নিয়ে শুনেছেন, পড়েছেন এমনকি সিনেমায় দেখেছে। গল্পটা সবসময়ই মনে হয়েছে কল্পনা, নিছক ভয় ধরানোর জন্য বানানো এক কাল্পনিক চরিত্র।

কিন্তু সবাই এমনটা ভাবেনি। একসময় ইউরোপের অনেক অঞ্চলে মানুষ সত্যিই বিশ্বাস করত মৃত মানুষ ফিরে আসতে পারে আবার, আর সে হয়ে উঠতে পারে রক্তচোষা এক ভয়ংকর সত্তা। বিশেষ করে ১৭ থেকে ১৮ শতকে পূর্ব ইউরোপের গ্রামাঞ্চলে এই বিশ্বাস ছিল সবচেয়ে বেশি। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ মৃত্যু, অজানা রোগ, কিংবা মৃতদেহের অস্বাভাবিক অবস্থা সবকিছুই তারা ভ্যাম্পায়ারের কাজ বলে মনে করত।

এই ভয় থেকেই শুরু হয় এক ধরনের ‘প্রতিরোধ’। কোথাও মৃতদেহের হৃদয়ে কাঠের খুঁটি ঢুকিয়ে দেওয়া হতো, কোথাও আবার কবর খুঁড়ে মাথা আলাদা করে ফেলা হতো। এমনকি কিছু জায়গায় মৃতদেহের মুখে রসুন বা পাথর ঢুকিয়ে রাখা হতো— যাতে সে আর ফিরে আসতে না পারে।

এই বিশ্বাসই পরে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয় সাহিত্য আর জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে। ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত 'ড্রাকুলা' উপন্যাস ভ্যাম্পায়ার ধারণাকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তোলে। সেই গল্পে ভ্যাম্পায়ার মারার জন্য যে সব উপকরণের কথা বলা হয়— কাঠের খুঁটি, পবিত্র ক্রস, রসুন, পবিত্র পানি—সেগুলোই পরে 'ভ্যাম্পায়ার স্লেয়িং কিট' নামে পরিচিত হয়।

১৯০০ শতকে কিছু কিট তৈরি করা হয়, যেগুলো দেখতে ছোট বাক্স বা কফিনের মতো। ভেতরে সাজানো থাকত বিভিন্ন সরঞ্জাম— ছুরি, ক্রস, বাইবেল, কখনও কখনও বন্দুক বা বুলেট তৈরির সরঞ্জামও।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই কিটগুলোর বেশিরভাগই বাস্তব ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সংগ্রাহকদের জন্য বা কৌতূহল জাগানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুরনো জিনিসের প্রতিষ্ঠান— Sterling Associates Inc.— এ ধরনের দুটি কিট নিলামে তুলেছে। একটি বড় কফিন আকৃতির, আরেকটি ভ্রমণের জন্য ছোট আকারের। প্রতিটি কিটের দাম ধরা হয়েছে কয়েক হাজার ডলার, যা প্রমাণ করে আজও এই বিষয়টি মানুষের কাছে কতটা আকর্ষণীয়।

Untitled-1
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন

তবে বিজ্ঞান কী বলছে? আধুনিক গবেষণা বলছে, তখনকার অনেক 'ভ্যাম্পায়ার'সম্পর্কৃত ঘটনা আসলে ছিল ভুল ব্যাখ্যা। যেমন— দেহ পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কখনও কখনও মৃতদেহ ফুলে ওঠে, মুখে রক্তের মতো দাগ দেখা যায়— যা মানুষ ভুল করে ভ্যাম্পায়ারের লক্ষণ ভাবত। আবার প্লেগ বা যক্ষ্মার মতো রোগ একের পর এক মানুষকে আক্রান্ত করায়, তারা ভাবত কেউ 'রক্ত চুষে' নিচ্ছে।

অর্থাৎ যেটাকে একসময় অতিপ্রাকৃত ভয় মনে করা হতো, সেটার পেছনে ছিল অজানা রোগ, সীমিত জ্ঞান আর মানুষের গভীর আতঙ্ক।

তাই বলা যায়— ভ্যাম্পায়ার হয়ত গল্পেই আছে, কিন্তু সেই গল্পে বিশ্বাস করা মানুষের ভয় ছিল একেবারেই বাস্তব। আর সেই ভয় থেকেই জন্ম নিয়েছিল এমন অদ্ভুত সব জিনিস, যেগুলো আজ ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission