ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভ্যাম্পায়ার কি মিথ? তাহলে তাদের মারার অস্ত্র কেন তৈরি হয়েছিল?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
প্রতীকী ছবি

অনেকেই ভ্যাম্পায়ার নিয়ে শুনেছেন, পড়েছেন এমনকি সিনেমায় দেখেছে। গল্পটা সবসময়ই মনে হয়েছে কল্পনা, নিছক ভয় ধরানোর জন্য বানানো এক কাল্পনিক চরিত্র।

কিন্তু সবাই এমনটা ভাবেনি। একসময় ইউরোপের অনেক অঞ্চলে মানুষ সত্যিই বিশ্বাস করত মৃত মানুষ ফিরে আসতে পারে আবার, আর সে হয়ে উঠতে পারে রক্তচোষা এক ভয়ংকর সত্তা। বিশেষ করে ১৭ থেকে ১৮ শতকে পূর্ব ইউরোপের গ্রামাঞ্চলে এই বিশ্বাস ছিল সবচেয়ে বেশি। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ মৃত্যু, অজানা রোগ, কিংবা মৃতদেহের অস্বাভাবিক অবস্থা সবকিছুই তারা ভ্যাম্পায়ারের কাজ বলে মনে করত।

এই ভয় থেকেই শুরু হয় এক ধরনের ‘প্রতিরোধ’। কোথাও মৃতদেহের হৃদয়ে কাঠের খুঁটি ঢুকিয়ে দেওয়া হতো, কোথাও আবার কবর খুঁড়ে মাথা আলাদা করে ফেলা হতো। এমনকি কিছু জায়গায় মৃতদেহের মুখে রসুন বা পাথর ঢুকিয়ে রাখা হতো— যাতে সে আর ফিরে আসতে না পারে।

এই বিশ্বাসই পরে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয় সাহিত্য আর জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে। ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত 'ড্রাকুলা' উপন্যাস ভ্যাম্পায়ার ধারণাকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তোলে। সেই গল্পে ভ্যাম্পায়ার মারার জন্য যে সব উপকরণের কথা বলা হয়— কাঠের খুঁটি, পবিত্র ক্রস, রসুন, পবিত্র পানি—সেগুলোই পরে 'ভ্যাম্পায়ার স্লেয়িং কিট' নামে পরিচিত হয়।

১৯০০ শতকে কিছু কিট তৈরি করা হয়, যেগুলো দেখতে ছোট বাক্স বা কফিনের মতো। ভেতরে সাজানো থাকত বিভিন্ন সরঞ্জাম— ছুরি, ক্রস, বাইবেল, কখনও কখনও বন্দুক বা বুলেট তৈরির সরঞ্জামও।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই কিটগুলোর বেশিরভাগই বাস্তব ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সংগ্রাহকদের জন্য বা কৌতূহল জাগানোর উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুরনো জিনিসের প্রতিষ্ঠান— Sterling Associates Inc.— এ ধরনের দুটি কিট নিলামে তুলেছে। একটি বড় কফিন আকৃতির, আরেকটি ভ্রমণের জন্য ছোট আকারের। প্রতিটি কিটের দাম ধরা হয়েছে কয়েক হাজার ডলার, যা প্রমাণ করে আজও এই বিষয়টি মানুষের কাছে কতটা আকর্ষণীয়।

Untitled-1
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন

তবে বিজ্ঞান কী বলছে? আধুনিক গবেষণা বলছে, তখনকার অনেক 'ভ্যাম্পায়ার'সম্পর্কৃত ঘটনা আসলে ছিল ভুল ব্যাখ্যা। যেমন— দেহ পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কখনও কখনও মৃতদেহ ফুলে ওঠে, মুখে রক্তের মতো দাগ দেখা যায়— যা মানুষ ভুল করে ভ্যাম্পায়ারের লক্ষণ ভাবত। আবার প্লেগ বা যক্ষ্মার মতো রোগ একের পর এক মানুষকে আক্রান্ত করায়, তারা ভাবত কেউ 'রক্ত চুষে' নিচ্ছে।

অর্থাৎ যেটাকে একসময় অতিপ্রাকৃত ভয় মনে করা হতো, সেটার পেছনে ছিল অজানা রোগ, সীমিত জ্ঞান আর মানুষের গভীর আতঙ্ক।

তাই বলা যায়— ভ্যাম্পায়ার হয়ত গল্পেই আছে, কিন্তু সেই গল্পে বিশ্বাস করা মানুষের ভয় ছিল একেবারেই বাস্তব। আর সেই ভয় থেকেই জন্ম নিয়েছিল এমন অদ্ভুত সব জিনিস, যেগুলো আজ ইতিহাসের এক রহস্যময় অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব