বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ১২:৫১ পিএম
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে বিজেপি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এই ফলাফলকে ভারতের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই ভারতীয় বার্তাসংস্থা আইএএনএসকে বলেন, গত মাসে ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলেছিলেন, তিনি তার প্রতি মুগ্ধ এবং ভারত তার মতো একজন নেতাকে পেয়ে সৌভাগ্যবান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সর্বসাম্প্রতিক ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত নির্বাচনী জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই প্রথমবার নরেন্দ্র মোদির দল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করতে যাচ্ছে। এতদিন রাজ্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
মূলত এই ফলাফলের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটছে। একই সঙ্গে এটি নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি তার তৃতীয় মেয়াদের মাঝপথে তার নেতৃত্ব তথা অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
পশ্চিমবঙ্গে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলার ভাগ্যে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং সুশাসনের রাজনীতিতে বিজেপি বিজয়ী হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষকে আমি প্রণাম জানাই।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই জয়কে নরেন্দ্র মোদির সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক দুর্গ জয়গুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল একদিকে যেমন ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের প্রতিফলন, অন্যদিকে বিজেপির আরও কার্যকর নির্বাচনী প্রচারণার ফলও বটে।
সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের বিশ্লেষক রাহুল ভার্মা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এটি বিজেপি নেতৃত্বের ‘সাত বছরের প্রকল্পের’ সফল পরিণতি। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তিশালী ও সুসংগঠিত উপস্থিতি ছিল এবং মোদিকে একজন ক্যারিশমাটিক নেতা হিসেবে দেখা হয়। একই সঙ্গে হিন্দু ভোট ঐকবদ্ধ করা ছাড়া এমন ফল সম্ভব হতো না।
নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক ও বামঘেঁষা রাজনীতির শক্ত ঘাঁটি ছিল। সেখানে বিজেপির এই উত্থান ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরটিভি/এমএ