শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ০৫:২৯ পিএম
ইসরায়েলে প্রথমবারের মতো ভয়াবহ ‘হান্টাভাইরাস’ আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিরল ও প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণের পর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তি কয়েক মাস আগে পূর্ব ইউরোপ ভ্রমণে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে হান্টাভাইরাসের জিনগত উপাদান পাওয়ার পর সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তাকে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল হলেও এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণে গিয়ে কয়েকজন নাগরিক আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। তবে নতুন শনাক্ত হওয়া এই রোগী ‘ইউরোপীয় ভ্যারিয়েন্ট’-এর ভাইরাসে আক্রান্ত, যা দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ স্ট্রেইনের তুলনায় ভিন্ন প্রকৃতির। বিশেষজ্ঞরা এই ভ্যারিয়েন্টের শক্তি ও ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আন্দিজ স্ট্রেইনটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। এমভি হন্ডিয়াস নামের এক প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরই আন্দিজ স্ট্রেইন নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে । জাহাজটিতে ২৩ দেশের প্রায় ১৪৭ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকেরই শ্বাসকষ্টজনিত গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করা হয়েছে এবং অসুস্থদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি বর্তমানে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর বা বন্য প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায় এবং মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে এটি মারাত্মক শ্বাসকষ্টসহ অঙ্গহানির কারণ হতে পারে। যদিও সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকির কথা এখনই বলা হচ্ছে না, তবুও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো। মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মাধ্যমেই এই ভয়ংকর ভাইরাসটি এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হান্টাভাইরাস কী?
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর সংস্পর্শে আসা অথবা তাদের মূত্র, বিষ্ঠা কিংবা লালারস থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এর উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ ভাইরাসজনিত অসুস্থতার মতো মনে হলেও ভাইরাসের ধরনভেদে এটি শ্বাসতন্ত্র বা কিডনিসংক্রান্ত গুরুতর জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বর্তমানে এ রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিরোধ এবং দ্রুত শনাক্তকরণই রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরটিভি/এআর