images

আন্তর্জাতিক

মায়ের সহায়তায় শিশুকে যৌন নিপীড়ন করেন বৌদ্ধ ভিক্ষু, অতঃপর...

সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৫:০৫ পিএম

শ্রীলঙ্কায় এক শিশুকে (১১) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দেশটির প্রভাবশালী এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভিক্ষুকে সহায়তা করেছেন।

ঘটনাটি দেশটির ধর্মীয় অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও উচ্চপর্যায়ের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ৭১ বছর বয়সী বৌদ্ধ ভিক্ষু পাল্লেগামা হেমারাথানাকে শনিবার (৯ মে) রাজধানী কলম্বোর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে আনুরাধাপুরা শহরের একটি অত্যন্ত 'পবিত্র' বৌদ্ধ মন্দিরে ওই শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এ শহরটি শ্রীলঙ্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। ওই মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বে ছিলেন হেমারাথানা।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খুব শিগগিরই তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ঘটনার একদিন আগে আনুরাধাপুরার একটি আদালত ওই ভিক্ষুর বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। আগামী মঙ্গলবার তার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

আগামী ৮৪ দিন সূর্যাস্ত দেখবেন না যে দেশের বাসিন্দারা

শ্রীলঙ্কায় অতীতেও ধর্মীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এত উচ্চপদস্থ কোনো বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এবারই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে।

পাল্লেগামা হেমারাথানা সেই পবিত্র বোধিবৃক্ষের প্রধান রক্ষক হিসেবে পরিচিত, যেটিকে গৌতম বুদ্ধের জ্ঞান লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত ভারতের মূল বোধিবৃক্ষের চারা থেকে জন্মানো বলে বিশ্বাস করা হয়। আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

এ ছাড়া তিনি বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ পথের আটটি প্রসিদ্ধ মন্দিরেরও প্রধান অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এদিকে, এই গ্রেপ্তারের কয়েকদিন আগেই থাইল্যান্ড থেকে ফেরা ২২ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে শ্রীলঙ্কার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আটক করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন।

২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে ভক্তদের অনুদানের প্রায় ৯০ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে একটি বৌদ্ধ মঠে ধ্যানচর্চার কাজে ব্যবহারের অভিযোগে ৪১টি মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করে থাই পুলিশ। আর ২০২২ সালে মধ্য থাইল্যান্ডের একটি বৌদ্ধ মন্দিরের সব ভিক্ষুকে মাদক পরীক্ষায় মেথঅ্যামফেটামিন পজিটিভ আসার পর ভিক্ষু পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে