images

আন্তর্জাতিক

‘হানিমুন’ করতে প্রতিবছর কানাডায় যায় প্রায় দেড় লাখ সাপ 

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ১২:২৭ পিএম

কোনো রাস্তায় হঠাৎ একটি সাপ দেখলেই অধিকাংশ মানুষ ভয় পেয়ে দূরে সরে যান। সেখানে যদি একসঙ্গে হাজার হাজার সাপ চোখের সামনে নড়াচড়া করতে থাকে, তাহলে দৃশ্যটি কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। অথচ পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে প্রতি বছর হাজারো মানুষ ভিড় করেন শুধুমাত্র অসংখ্য সাপের মিলনমেলা দেখার জন্য।

কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের নারসিস শহর এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘সাপের হানিমুন স্পট’ হিসেবে। প্রতি বসন্তে এখানে জড়ো হয় ৭৫ হাজারেরও বেশি লাল ডোরাকাটা ইস্টার্ন গার্টার সাপ। কোনো কোনো সময়ে সেই সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায় বলেও জানিয়েছেন গবেষকেরা।

দীর্ঘ শীত শেষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে শুরু হয় এই বিরল প্রাকৃতিক আয়োজন। শীতকালে সাপগুলো ভূগর্ভস্থ চুনাপাথরের গুহায় আশ্রয় নেয়। তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে প্রথমে বেরিয়ে আসে পুরুষ সাপগুলো। এরপর স্ত্রী সাপের খোঁজে তারা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

বাঁশির সুরে কি সত্যিই ছুটে আসে সাপ? জানুন বিস্তারিত

স্ত্রী সাপ বের হওয়ার পর দেখা যায় বিস্ময়কর এক দৃশ্য। শত শত পুরুষ সাপ একটি স্ত্রী সাপকে ঘিরে ধরে মিলনের চেষ্টা চালায়। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এই আচরণকে বলা হয় ‘মেটিং বল’। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, মাটির ওপর যেন বিশাল কোনো সাপের গোলক নড়াচড়া করছে।

প্রতিবছর এই অদ্ভুত দৃশ্য পর্যবেক্ষণে নারসিসে যান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জীববিজ্ঞানী ও গবেষকেরা। একই সঙ্গে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছেও জায়গাটি হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ। কাছ থেকে হাজার হাজার সাপের এমন আচরণ দেখার সুযোগ পৃথিবীতে খুব কম স্থানেই রয়েছে।

তবে এই সাপযাত্রা নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। নারসিস এলাকার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া মহাসড়কে যানবাহনের চাপায় অতীতে বিপুলসংখ্যক সাপ মারা যেত। পরে পরিবেশবিদেরা সাপগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য সড়কের নিচে বিশেষ টানেল ও সুরক্ষা বেড়া নির্মাণ করেন। এতে দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কমেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারসিসের এই সাপ সমাবেশ শুধু একটি বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি সাপের আচরণ, প্রজনন ও বাস্তুতন্ত্র নিয়ে গবেষণায় বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছে। সূত্র: নিউজ এইটিন 

আরটিভি/এমএইচজে