ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঁশির সুরে কি সত্যিই ছুটে আসে সাপ? জানুন বিস্তারিত

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
প্রতীকী ছবি

ছোটবেলা থেকে আমরা অনেকেই দেখে এসেছি, সাপুড়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন আর সামনে ফণা তুলে দুলছে সাপ। সিনেমা, মেলা বা গ্রামের অনুষ্ঠানে এই দৃশ্য খুবই পরিচিত। তাই অনেকেরই ধারণা, বাঁশির সুর শুনেই সাপ নাচতে শুরু করে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, আসল ঘটনা একেবারেই অন্যরকম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ মানুষের মতো শব্দ শুনতে পারে না। কারণ সাপের বাইরে কোনো কান দেখা যায় না এবং তাদের কানের ছিদ্রও নেই। তাই তারা বাতাসের শব্দ খুব কম শুনতে পারে। কিন্তু তারা মাটির কম্পন দারুণভাবে অনুভব করতে পারে।

সাপ মূলত— মাটির কম্পন, আশপাশের নড়াচড়া, নিচু ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তাদের চোয়ালের হাড় ও শরীরের মাধ্যমে অনুভব করে। কম্পন চোয়াল থেকে ভেতরের কানে পৌঁছে যায়। এ কারণেই কেউ হাঁটলে সাপ টের পায়, মাটিতে আঘাত করলে সাপ সতর্ক হয়, ঢোল বা ভারী কম্পনের প্রতি সাপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

তবে বাঁশির সুরে সাপ নাচে বা ছুটে আসে এটা সত্য নয়। সাপ আসলে সুর শোনে না; তারা বাঁশিওয়ালার নড়াচড়া ও কম্পনের দিকে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

আরও পড়ুন

যখন সাপুড়ে বাঁশি বাজান, তখন তিনি শুধু সুরই করেন না, বাঁশিটিকে এদিক-ওদিকও নাড়ান। সাপ সেই নড়াচড়ার দিকে নজর রাখে। সাপ মনে করে সামনে কোনো বিপদ বা আক্রমণ আসতে পারে। তাই আত্মরক্ষার জন্য ফণা তুলে বাঁশির গতির সঙ্গে নিজের মাথা ও শরীর দোলাতে থাকে। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, যেন সাপ বাঁশির তালে নাচছে।

আসলে সাপ খুব সতর্ক প্রাণী। তাদের চোখ সবসময় সামনে থাকা জিনিসের গতিবিধির দিকে থাকে। সাপুড়ে যখন বাঁশি নাড়াতে থাকেন, সাপ সেই নড়াচড়াকে অনুসরণ করে।

সাপ মাটির কম্পন খুব দ্রুত বুঝতে পারে। কেউ জোরে হাঁটলে বা মাটিতে আঘাত করলে সেই কম্পন সাপ অনুভব করতে পারে। এই ক্ষমতা তাদের শিকার ধরতে ও বিপদ এড়াতে সাহায্য করে।

তাই বলা যায়, সাপ আসলে বাঁশির সুরে নাচে না। সে শুধু বাঁশির নড়াচড়া ও আশপাশের কম্পনের প্রতিক্রিয়া দেয়। বহুদিনের লোকবিশ্বাস ও সিনেমার প্রভাবে এই ভুল ধারণা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
ঘুমন্ত গৃহবধূকে ছোবল দিল বিষাক্ত সাপ, দুই দফা অ্যান্টিভেনমেও বাঁচল না প্রাণ
দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর
চট্টগ্রামে বিষধর শঙ্খিনীর ৩ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার
রান্নাঘরে লাকড়ির স্তূপে তাকাতেই চোখ কপালে