সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ , ১১:২২ পিএম
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা বন্ধ করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির পশ্চিমবঙ্গে আগামী মাস থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার আজ অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো ধর্মভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে সরকারি আর্থিক সহায়তা আগামী জুন মাস থেকে বন্ধ করা এবং কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্যের বিদ্যমান অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) তালিকা বাতিল করা।
রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সংরক্ষণের যোগ্যতা নির্ধারণে একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে ধর্মভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী যেসব প্রকল্প চালু রয়েছে, সেগুলো চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জুন মাস থেকে এসব প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে পৃথকভাবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এসব প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তকে রাজ্যের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছর পর ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং মন্দিরের পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করেছিল। এসব প্রকল্পের প্রথমটি ২০১২ সালে চালু হয়। সে সময় পশ্চিমবঙ্গের নিবন্ধিত ইমামদের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকা ভাতা ঘোষণা করা হয়। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ধর্মীয় নেতাদের সহায়তার উদ্দেশ্যে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
এর কিছুদিন পর একই ধরনের আর্থিক সহায়তা মুয়াজ্জিনদের জন্যও চালু করা হয়। এই দুই প্রকল্পের অর্থ সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে বিতরণ করা হতো। পরে ২০২০ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার হিন্দু পুরোহিতদের জন্যও একই ধরনের ভাতা চালু করে। এ প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত পুরোহিতরা প্রথমে মাসিক প্রায় ১ হাজার টাকা ভাতা পেতেন। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়।
আরটিভি/এমএইচজে