বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০৫:৪৩ পিএম
যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ৪-এর অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ (এমএএফএস ইউকে) নিয়ে এক ভয়াবহ কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। অনুষ্ঠানটির শুটিং চলাকালে দুই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং তৃতীয় আরেক নারী সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী নারীরা এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।
বিবিসির এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে চ্যানেল ৪ কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে এক বিবৃতিতে তারা জানায়, স্ট্রিমিং ও প্রচলিত টেলিভিশন সম্প্রচার সেবা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব চ্যানেল থেকে বিতর্কিত পর্ব ও সংশ্লিষ্ট সব কনটেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট’ একটি বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি, যা বাংলাদেশেও বেশ পরিচিত। এই অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ অপরিচিত দুজন অনস্ক্রিন ‘বিয়ে’ করেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ক্যামেরার সামনে তুলে ধরা হয়।
বিবিসির কাছে অভিযোগ করা তিন নারীর মধ্যে একজন ছদ্মনামধারী লিজি। তিনি জানান, মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পর থেকেই তার অনস্ক্রিন স্বামী সহিংস আচরণ শুরু করেন। একদিন অ্যাপার্টমেন্টের সোফায় জোরপূর্বক সম্পর্কের চেষ্টা করলে লিজি ‘না’ বলেন। কিন্তু তার সঙ্গী তুমি না বলতে পারো না, তুমি আমার স্ত্রী বলে লিজিকে ধর্ষণ করেন। প্রতিবাদ করলে লিজির ওপর অ্যাসিড হামলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরদিন সকালে লিজি শোর ওয়েলফেয়ার টিমকে শরীরের কালশিটে দাগ দেখান। লিজির অনস্ক্রিন স্বামী অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লিজি এখন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ক্লোই (ছদ্মনাম) নামের দ্বিতীয় এক নারী অভিযোগ করেন, ঘুমের মধ্যে তার অনস্ক্রিন স্বামী তার সঙ্গে যৌন অসদাচরণ শুরু করেন। তিনি চিৎকার করে থামতে বললেও ওই ব্যক্তি থামেননি। পরবর্তীতে শোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে ঘটনাটি খুলে বললে তিনি জানান যে ক্লোইর সঙ্গে যা ঘটেছে তা ধর্ষণের শামিল।
তৃতীয় নারী শোনা ম্যান্ডারসন ২০২৩ সালের সিরিজে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি নিজের নাম প্রকাশ করে বলেন, তার সঙ্গী ক্যামেরার আড়ালে সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। শোর ওয়েলফেয়ার সিস্টেম পুরোপুরি ব্যর্থ দাবি করে শোনা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এই ধরনের রিয়্যালিটি শো আদৌ সম্প্রচারে থাকা উচিত নয়।
অভিযোগকারী নারীদের দাবি, তাদের সুরক্ষার জন্য অনুষ্ঠান আয়োজকেরা যথেষ্ট ব্যবস্থা নেননি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের আগেই চ্যানেল ৪ এবং স্বাধীন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সিপিএল’ কিছু অভিযোগ সম্পর্কে জানত। তা সত্ত্বেও ভুক্তভোগী নারীদের অংশ নেওয়া পর্বগুলো স্ট্রিমিং সেবায় প্রচার করা হচ্ছিল।
এর আগে চ্যানেল ৪ কর্তৃপক্ষ বিবিসি প্যানোরামাকে বলেছিল, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাদের সুর নরম হয়েছে। সৃজনশীল শিল্প খাতের নতুন তদারকি সংস্থার চেয়ারম্যান এই রিয়্যালিটি শোর ফরম্যাটটিকে ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ৩০ লাখের বেশি দর্শকপ্রিয় এই শোর দশম সিজন চলছে, যা এখন বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে।
আরটিভি/এআর