ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা ভারতের প্রধান বিচারপতির, অতঃপর...  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র ক্ষোভ, ব্যঙ্গ ও অনলাইন প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা ও ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অভিনব এই অনলাইন আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী ডিজিটাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনসংযোগ বিষয়ে সদ্য স্নাতক শেষ করা এই তরুণ গত কয়েক দিন ধরে প্রায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে আসা হাজারো মানুষের বার্তার জবাব দিতে।

ঘটনার শুরু গত ১৫ মে শুক্রবার। খোলা আদালতে এক মামলার শুনানির সময় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি যোগমাল্য বাগচীর বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘কিছু পরজীবী পুরো ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ করছে।’ এ সময় বেকার তরুণদের একাংশকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু তরুণ আছে যারা কোনো চাকরি পায় না বা পেশায় জায়গা করতে পারে না। তাদের কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সামাজিক মাধ্যমে, কেউ আরটিআই (তথ্য অধিকার) কর্মী বা অন্য ধরনের কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।’

আরও পড়ুন

প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভারতের ‘জেন-জি’ অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে ১৬ মে অভিজিৎ দীপকে এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইনস্টাগ্রামে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি প্রতীকী ও ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেন। দলটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে রসাত্মকভাবে উল্লেখ করা হয়—‘বেকার, অলস, সার্বক্ষণিক অনলাইনে থাকা এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতাসম্পন্ন’। দলটির নির্বাচনি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে ‘মোবাইল ফোন’।

দেখতে দেখতে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন এক বিশাল রূপ নেয়। মাত্র চার দিনে দলটির ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজগুলোতে কয়েক লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদের মতো মূলধারার রাজনীতিকেরাও সামাজিক মাধ্যমে এই দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রসাত্মক পোস্টে অংশ নিয়েছেন।

দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে গত শনিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তার বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, তার মন্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি ভারতের বেকার যুবসমাজকে লক্ষ্য করে কিছু বলেননি; বরং যারা ‘ভুয়া ও জাল ডিগ্রি’ নিয়ে আইন বা গণমাধ্যমের মতো পেশায় প্রবেশ করে ব্যবস্থার ক্ষতি করছে, তাদের উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের তরুণ সমাজই উন্নত ভারতের মূল স্তম্ভ।’

প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দিলেও তরুণদের ক্ষোভ কমেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ কেবল একটি কৌতুক নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে ভারতের শিক্ষিত তরুণদের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ ও হতাশা। মোদি সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে বাড়তে থাকা বেকারত্ব, তীব্র মূল্যস্ফীতি, প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার বিরুদ্ধে এটি যুবসমাজের একটি প্রতীকী প্রতিরোধ।

ব্যঙ্গাত্মক এই দলটির ৫ দফা ইশতেহারে কিছু গুরুতর দাবিও তোলা হয়েছে। যেমন—অবসর গ্রহণের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভার সদস্য পদ বা কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার দেওয়া যাবে না, দলবদল করা আইনপ্রণেতাদের ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং সিবিএসই বা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

আন্দোলনের উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা মনে করেন সাধারণ নাগরিকেরা বুঝি তেলাপোকা বা পরজীবী। তাদের জানা উচিত, পচা জায়গাতেই তেলাপোকার জন্ম হয়। বর্তমান ভারতের শাসনব্যবস্থার অবস্থাও তেমনই।’

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
তুরস্কের পার্লামেন্টে ২৭৯ ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেন ১১৯ জন। পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ভোটে অংশ নেন ৩৯৮ জন।
তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদন পেল মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
মৃত্যুর পর দাফন বা সৎকারের রীতি দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন। তবে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে একসময় প্রচলিত ছিল অদ্ভুত এক বিশ্বাস—কবর দেওয়া মৃত ব্যক্তিও নাকি ফিরে আসতে পারেন জীবিতদের মাঝে!
মৃতদেহ উঠে আসার ভয়ে গলায় কাস্তে, পায়ে তালা! ভ্যাম্পায়ার-ভীতি নাকি অন্য কিছু?
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
ধারের টাকা পরিশোধের জন্য গোয়ালের গরু বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ট্রাকচালক চুন্নিলাল কুমাওয়াত (৫৬)। তবে এতে তার স্ত্রী চুঙ্কি দেবী (৫২) আপত্তি জানান।
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছে রাশিয়া। হেলিকপ্টার থেকে পরিচালিত এসব লঞ্চারের মাধ্যমে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদনসংক্রান্ত নথিতে ‘এপিইউ-এল’ মডেলের ৯০টি লঞ্চার রপ্তানির আদেশের তথ্য রয়েছে। সেখানে ক্রেতার নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘কে-১০’ সাংকেতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নথিতে এই সংকেত দিয়ে ইরানকে বোঝানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এসব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লঞ্চারগুলো রাশিয়ার এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায়। প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। আকাশে উড্ডয়নের সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। ফলে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ তৈরি হয়। এফটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে মস্কো। ‘সি৪৩০এল’ নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এর আগে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেও সহযোগিতা করছে মস্কো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।  এ কারণে রুশ সামরিক সহায়তায় ইরানের সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা আঞ্চলিক সংঘাতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আরটিভি/এসআর  
ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিতে রাজি রাশিয়া
আরও পড়ুন
ভারতীয় ভিসা আবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা
গরু বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ট্রাকচাপা দিলেন স্বামী
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান
ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা