শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০৩:০১ এএম
দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী নারীর মুখে প্রস্রাব এবং ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ওই নারীর শরীরে ‘বিষাক্ত’ পদার্থ প্রবেশ করানোর অভিযোগে ভারতের কর্নাটকের মুনিরথনা নামে এক বিজেপি বিধায়ক এবং তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এর আগেও একাধিকবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন হেনস্তা, এইচআইভি আক্রান্ত মহিলাদের দিয়ে বিভিন্ন রাজনীতিকদের মধুচক্রে ফাঁসানোর মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় উত্তর বেঙ্গালুরুর এক থানায় মুনিরথনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, এ ঘটনা ২০২৩ সালের ১১ জুনের। তিনি বিজেপি কর্মী। মুনিরথনার নির্দেশে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা করা হয়েছিল। যা থেকে রেহাই পেতে বিধায়কের সঙ্গীদের সঙ্গে তিনি মুনিরথনার অফিসে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের কাছে করা অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন অফিসের ভেতরে মুনিরথনা আর তার দুই সহযোগী ভুক্তভোগীকে নগ্ন করে অত্যাচার শুরু করেন। তাকে ভয় দেখানো হয় ছেলেকে হত্যা করার। মুনিরথনা দাঁড়িয়ে থেকে বাকিদের নির্দেশ দেন ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করার। তারপর মুনিরথনা তার মুখে প্রস্রাব করে দেন। এরপর চারজন অপরিচিত ব্যক্তি ঘরে এসে একটি সাদা বাক্স মুনিরথনার হাতে দেন। সেখান থেকেই সিরিঞ্জ বের করে নারীর শরীরে ফুটিয়ে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওই নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, তিনি এমন এক ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন যার থেকে সেরে ওঠা সম্ভব নয়। নির্যাতিতা নিশ্চিত হয়ে যান ওই বিষাক্ত ইঞ্জেকশনের কারণেই এমনটা হয়েছে। পরে ১৯ মে তিনি ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেঁচে যান। এরপরই ভুক্তভোগী সিদ্ধান্ত নেন বিষয়টি পুলিশকে জানানোর। পরে তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করে পুলিশ।
এদিকে এই মামলার পাশাপাশি বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে মুনিরথনার বিরুদ্ধে। সেই বিষয় তদন্ত করার জন্য কর্ণাটক বিধানসভার স্পিকার পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আরটিভি/এমএইচজে